সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: বাঘের হানায় তাঁদের অনেকেই স্বামীহারা হয়েছেন। তাঁদের কেউ এখন ঘরকন্যা সামলান, কেউ নদীতে মাছ-কাঁকড়া ধরেন, কেউ আবার চাষবাসের কাজ করেন। তাঁরা সুন্দরবনের কুলতলির দেউলবাড়ির বামনপাড়ার বাসিন্দা। এই মহিলারাই গ্রামে আয়োজন করেছেন দুর্গাপুজোর। যা ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা গোটা গ্রামে। তাঁরা নিজেরাই গ্রাম ঘুরে চাঁদা তুলেছেন।
মাতলা নদীর ধারে দেউলবাড়ি গ্রামে প্রতি পদে বাঘের ভয়। সংসার চালাতে গিয়ে যেন যুদ্ধে নামতে হয় গৃহবধূদের। বামনপাড়ার মা সারদা সংঘ ও গ্রামবাসীদের এই পুজো দ্বিতীয় বছরে পড়েছে। চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। দাঁড়িয়ে থেকে তা দেখভাল করছেন কবিতা চক্রবর্তী, বাসন্তী চক্রবর্তী, সুভদ্রা চক্রবর্তী, দীপা হালদার, টুনা চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা বৈরাগী, অসীমা চক্রবর্তীরা। মণ্ডপ নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রতিমা আনা, ফল কাটা সবই করতে হয় তাঁদের। সুভদ্রা, কবিতা, বাসন্তীরা বলেন, পুজোর ক’টা দিন আমরা একসঙ্গে আনন্দে কাটাই। মেয়েরাই সব কাজ করে। আমরা কোনো সরকারি সাহায্য পাই না। কয়েক মাস আগে টুনা চক্রবর্তীর স্বামী গোপাল চক্রবর্তী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন।
টুনাদেবী বলেন, নদীতে মাছ, কাঁকড়া ধরেই আমাদের সংসার চলত। বাড়ির কর্তাকেই বাঘে নিয়ে গিয়েছে। এখন কোনোমতে সংসার চলছে। মায়ের কাছে প্রার্থনা, যেন সংসারটা বাঁচাতে পারি। গৃহবধূ কবিতা চক্রবর্তী বলেন, স্বামী নদীতে মাছ ধরতে যায়। তাতেই চলে সংসার। আমরা নিজেরা কিছু টাকা দিই আর গ্রামের লোকজনের সাহায্যে এই পুজো হয়। এবার কুমারটুলি থেকে প্রতিমা নয়, স্থানীয় এক মৃৎশিল্পীর কাছ থেকে প্রতিমা আনা হচ্ছে। আমরা মেয়েরা দল বেঁধে গিয়ে মাকে নিয়ে আসব মণ্ডপে। সব মিলিয়ে দেউলবাড়ির বামনপাড়ায় এখন উৎসবের আমেজ।



