Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুকুটমণিপুরে সাড়ে ৪ কোটিতে আলো, রাস্তা সংস্কারে ২ কোটি

পর্যটনের মরশুমের আগেই মুকুটমণিপুরকে ঢেলে সাজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মুকুটমণিপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক হয়।

মুকুটমণিপুরে সাড়ে ৪ কোটিতে আলো, রাস্তা সংস্কারে ২ কোটি
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পর্যটনের মরশুমের আগেই মুকুটমণিপুরকে ঢেলে সাজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মুকুটমণিপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক হয়। সেখানে রাস্তা নির্মাণ, পথবাতি বসানো সহ একগুচ্ছ প্রকল্প রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শীত পড়ার আগেই যাতে ওইসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তা দেখা হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এদিনের বৈঠকে মুকুটমণিপুরে পাহাড়ের চূড়ায় থাকা পার্কের নাম পরিবর্তন করা হয়। আগে ওই উদ্যানের নাম ছিল মুসাফিরানা। তা বদল করে অম্বিকানগর রাজ পরিবারের সদস্য তথা বিপ্লবী রাইচরণ ধবলদেবের নামাঙ্কিত করা হয়। এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত, খাতড়ার মহকুমা শাসক তাপস ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য আধিকারিকরা অংশ নেন। মন্ত্রী ওই উন্নয়ন পর্ষদের আমন্ত্রিত সদস্য হিসাবে এদিনের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। 

Advertisement

জেলাশাসক বলেন, পর্যটক টানতে আমরা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি। শীতের আগে যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    
উল্লেখ্য, খাতড়া মহকুমায় অবস্থিত মুকুটমণিপুর জলাধার পিকনিক স্পট ও পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিবছর কলকাতা সহ ভিনজেলার অনেকে সেখানে ভিড় জমায়। জলাধার সংলগ্ন ডিয়ার পার্ক, আম্বিকানগর রাজবাড়ি সহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের প্রিয় জায়গা। ফলে শীতের মরশুমে মুকুটমণিপুর তাঁদের বারবার হাতছানি দেয়। মুকুটমণিপুরে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মুকুটমণিপুরে ১৭টি লজ, হোটেল রয়েছে। ওইসব লজ, হোটেলে প্রায় ২০০ রুম রয়েছে। সাধারণত পুজোর পর থেকে রুমের বুকিং হয়ে যায়। ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই হোটেল ভরতি হয়ে যায়। ওইসময় মুকুটমণিপুরে কার্যত তিলধারণের জায়গা থাকে না। হোটেলের জন্য পর্যটকরা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান। তবে গত দু’বছর আশানুরূপ পর্যটক সমাগম হয়নি বলে হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ভরা শীতেও অধিকাংশ হোটেলের ঘর ফাঁকা পড়ে ছিল। হোটেলের লোকজন পর্যটকদের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করেছেন। গত দশ বছরে ওই ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলে তাঁরা জানিয়েছেন। 
পর্যটক আগমন কমে যাওয়ার পিছনে পরিকাঠামো অনুন্নয়ন অন্যতম কারণ বলে অনেকে মনে করেন। তৃণমূল জমানায় মুকুটমণিপুরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পৃথক পর্ষদ গঠন করা হয়। কিন্তু, সেভাবে উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। কিছু সৌন্দর্যায়নের কাজ করেই পর্ষদ দায় সেরেছিল। পর্ষদে থাকা লোকজন মুকুটমণিপুরের উন্নয়নে সেভাবে নজর দেননি বলেও অভিযোগ। সেই ঘাটতি পূরণ করতে আগামীদিনে প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ করে ১৬টি রাস্তা নির্মাণ করা হবে। পূর্ত(বিদ্যুৎ) দপ্তরকে সাড়ে ৪ কোটি টাকার আলোর ডিপিআর তৈরি করতে বলা হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে মুকুটমণিপুরে টোল ট্যাক্স আদায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। ফলে সরকারের অনেক রাজস্ব ক্ষতি হয়। পুরানো বরাত বাতিল করে টোল প্লাজার জন্য অনলাইনে দরপত্র নতুন করে আহ্বান করার সিদ্ধান্ত এদিনের বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। 
মহকুমা শাসক বলেন, সন্ধ্যার পর মুকুটমণিপুরের বেশকিছু জায়গা অন্ধকারে ঢেকে যায়। ওই জায়গায় আলো লাগানো জরুরি। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমরা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ