Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রন্থাগারগুলিতে কর্মীর অভাবে তালা, মন্ত্রীর কাছে পরিস্থিতি বদলের আবেদন

রাজ্যের জেলায় জেলায় বইমেলায় বই বিক্রির সংখ্যা বাড়লেও সরকারি গ্রন্থাগারগুলির অবস্থা বেহাল। একের পর এক গ্রন্থাগার স্রেফ উপযুক্ত কর্মীর অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

গ্রন্থাগারগুলিতে কর্মীর অভাবে তালা, মন্ত্রীর কাছে পরিস্থিতি বদলের আবেদন
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: রাজ্যের জেলায় জেলায় বইমেলায় বই বিক্রির সংখ্যা বাড়লেও সরকারি গ্রন্থাগারগুলির অবস্থা বেহাল। একের পর এক গ্রন্থাগার স্রেফ উপযুক্ত কর্মীর অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেমন কর্মীর অভাবে তালা পড়েছে করিমপুরের সরকার পোষিত গ্রন্থাগারগুলি। সেগুলি চালুর জন্য রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর কাছে আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, করিমপুর ১ ও ২ নম্বর ব্লক এলাকায় প্রায় ন’টি সরকারি গ্রন্থাগার রয়েছে। গত দশ-পনেরো বছরের মধ্যে কর্মীর অভাবে সেগুলিএকে একে বন্ধ হয়েছে। তালাবন্ধ থাকা গ্রন্থাগারে নষ্ট হচ্ছে বহু মূল্যবান পুরানো বই। সীমান্তের মানুষের অভিযোগ, করিমপুরের পাশাপাশি হোগলবেড়িয়ার পোড়াঘাটি, মুরুটিয়ার কেচুয়াডাঙা ও দাঁড়েরমাঠ, দীঘলকান্দি ও শঙ্খনগর, করিমপুরের রহমতপুর, থানারপাড়া থানার নতিডাঙা ও ধোড়াদহের গ্রন্থাগারগুলিতে এক সময় বহু সংখ্যক পাঠক ছিলেন। প্রতিদিন সেখানে পাঠকদের ভিড় লেগেইথাকত। প্রতি গ্রন্থাগারে একজন গ্রন্থাগারিক ও একজন লাইব্রেরিয়ান অ্যাটেণ্ডেন্ট কাজ করতেন। এবিষয়ে গ্রন্থাগার বিভাগে বারবার জানানো হয়েছে। কিছুদিন আগে করিমপুরে দু’জন কর্মী নিয়োগ হলেও তাঁরা দুপুরে মাত্র তিন ঘণ্টা গ্রন্থাগার খোলা রাখেন। ফলে কোনও পাঠক সেভাবে গ্রন্থাগারের সুবিধা পান না। করিমপুর ছাড়া বাকি আটটি গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। করিমপুর গ্রন্থাগারের প্রাক্তন গ্রন্থাগারিক বিশ্বনাথ সরকার বলেন, আগে করিমপুর লাইব্রেরিতে প্রায় ছ’শো সদস্য ছিলেন যাঁরা বই বাড়ি নিয়ে গিয়ে পড়তেন। এছাড়াও অনেক স্কুল পড়ুয়া এখানে গল্পের বই পড়ার পাশাপাশি পাঠ্যবই পড়ার সুবিধাও পেত। ২০১০ সালের পর থেকে সব গ্রন্থাগারে কর্মী সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। আমাকে তখন একই সঙ্গে দু’টি গ্রন্থাগারের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পুনরায় গ্রন্থাগারগুলি চালুর জন্য দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।

Advertisement

পোড়াঘাটির বাসিন্দা গোপাল রায় জানান, এক সময় স্থানীয় জাগরণী ক্লাবের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে বই কিনে ক্লাব পাঠাগার তৈরি করেছিলেন। ১৯৮০ সালে সেটি সরকারি অনুমোদন পায় এবং তারপর থেকে সেখানে প্রচুর বই রাখা হত। এলাকার বিভিন্ন বয়সি মানুষ সেই বই পড়তেন। ২০১০ সাল থেকে কর্মী সংখ্যা ঘাটতির কারণে বন্ধ হতে শুরু করে সেই পাঠাগার। প্রথমে সপ্তাহে দু’একদিন খোলা হত। তখনও অনেকে গ্রন্থাগারে আসতেন। তবে ২০১৮ সাল থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায় জানান, এলাকার বহু প্রাচীন গ্রন্থাগারে অনেক মুল্যবান ও দুর্লভ বই ছিল। বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক বই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল নির্ভর হলেও গ্রন্থাগারের সেই পরিবেশ ও বই পড়ার রোমাঞ্চ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছে। মন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছি। উনি গ্রন্থাগারগুলি চালুর ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।   প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ