Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সংগঠন বৃদ্ধি বামেদের, মুখ্যমন্ত্রীর গড়বেতা সফর ঘিরে জোর চর্চা

রাজ্যে পালাবদলের পর গড়বেতায় সিপিএমের সংগঠন বাড়ছে। একের পর এক পার্টি অফিস খুলছে বামেরা

সংগঠন বৃদ্ধি বামেদের, মুখ্যমন্ত্রীর গড়বেতা সফর ঘিরে জোর চর্চা
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর গড়বেতায় সিপিএমের সংগঠন বাড়ছে। একের পর এক পার্টি অফিস খুলছে বামেরা। মিটিং-মিছিলে লোকও হচ্ছে। তার জেরেই কি গড়বেতায় আসছেন মুখ্যমন্ত্রী? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জেলা রাজনীতির অন্দরে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী কয়েকদিন আগেই জেলায় এসে বলেছিলেন ‘সিপিএমকে উঠতে দেওয়া যাবে না।’ অনেকেই মনে করছেন, গড়বেতায় সিপিএমের বাড়বাড়ন্তকে ভালো চোখে দেখছে না বিজেপি নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সেবা সংকল্প অভিযান উপলক্ষে গড়বেতায় আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। সিপিএমের দাবি, বেনাচাপড়া সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ লালা ঝান্ডা হাতে রাস্তায় নামছে। তাঁদের বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও বিভিন্ন মিটিং মিছিলে মানুষের ঢল নামছে। আর এতেই গেরুয়া শিবির ভয় পেতে শুরু করেছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব বামেদের এই দাবি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে।রাজনৈতিকভাবে গড়বেতার গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। একসময় এই এলাকা ছিল সিপিএমের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। সুশান্ত ঘোষ, তপন ঘোষের মতো নেতাদের দাপটে বাম রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল গড়বেতা। বাম আমলে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের একাধিক ঘটনাও সামনে আসে। বেনাচাপড়া, ছোট আঙারিয়ার মতো ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ২০০৯-’১০ সাল থেকে গড়বেতায় সিপিএমের সংগঠন দুর্বল হতে শুরু করে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন গড়ে ওঠে। ২০১১ সালের পর থেকে গড়বেতায় ক্রমশ শক্তি বাড়ায় ঘাসফুল শিবির। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা, বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের দাপট দেখা যায়। তবে গত কয়েক বছরে সেই রাজনৈতিক সমীকরণে বদল আসে। গড়বেতার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির সংগঠন বাড়তে শুরু করে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জোরকদমে প্রচার চালালেও শেষ পর্যন্ত আসনটি বিজেপির দখলে যায়।

Advertisement

নির্বাচনের পরই তৃণমূলের সংগঠন কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে যায়।  নেতা-কর্মীরা গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। দল ভাগাভাগির জেরে অনে঩কেই কোন শিবিরে থাকবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। দ্বিধায় পড়েন তৃণমূল সমর্থকদের একটা বড় অংশও। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গড়বেতার বিভিন্ন গ্রামে সিপিএমের উপর আস্থা বাড়তে থাকে। তাদের সংগঠনকেও সক্রিয় হতে দেখা যায়। একের পর এক দলীয় কার্যালয় খোলা, মিছিল-মিটিং এবং কর্মিসভা ঘিরে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগেও গড়বেতা ও বেনাচাপড়ার মতো এলাকায় মিছিলের জন্য দশজন কর্মী জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল বামেদের। এখন সেই এলাকাতেই শতাধিক কর্মীকে নিয়ে মিছিল করতে দেখা যাচ্ছে। এলাকার দখল নিয়ে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। বিজেপির একাংশের দাবি, তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী সিপিএমের মারে জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এক বিজেপি নেতা বলেন, সংখ্যালঘু এলাকার বহু গ্রামে সংগঠন বাড়ানো যাচ্ছে না। অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমের ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়েছেন। গড়বেতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে শুভেন্দুবাবু ভালোভাবেই অবহিত। তিনি যা নির্দেশ দেবেন, সেই মতো কাজ হবে।  তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, এই এলাকায় মাঝেমধ্যেই সিপিএম-বিজেপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে শুনছি। অবশ্যই সিপিএমের সংগঠন বাড়ছে। তবে মমতাপন্থী তৃণমূল নেতারাও তৈরি হচ্ছেন।
সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, বেনচাপড়া সহ অনেক এলাকায় আমাদের বহু নেতা ঘরছাড়া। একশোর বেশি কর্মী জখম হয়েছেন। কিন্তু পুলিশ সিপিএমের লোকজনকেই গ্রেপ্তার করছে। মুখ্যমন্ত্রী আসছেন, ওঁদের কী পরামর্শ দেবেন জানি না। তবে আমাদের সংগঠন বাড়ায় বিজেপি নেতারা আতঙ্কিত তো বটেই।
যদিও বিজেপি এই দাবি মানতে নারাজ। বিজেপি নেতা অরূপ দাস বলেন, শুধু গড়বেতায় নয়, সারা রাজ্যের কোথাও সিপিএম নেই। ওদের কেউ পছন্দই করে না। ওদের আবার কে ভয় পাবে?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ