নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গার্ডেনরিচ ফ্লাইওভারে শুক্রবার রাতের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে চালক রোহিত আগরওয়ালের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চায় পুলিস। তা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয় দক্ষিণ বন্দর থানার তদন্তকারীদের। চারচাকা নয়, দু’চাকার লাইসেন্স নিয়েই ১২০ কিমি গতিতে গাড়ি ছোটাচ্ছিলেন বেপরোয়া তরুণ। এমনকী চারচাকার গাড়ি চালানোর জন্য ‘লার্নার’ লাইসেন্সও নেই তাঁর। তাহলে তিনি গাড়ি চালানো শিখলেন কীভাবে? জেরার মুখে যে উত্তর দিয়েছেন রোহিত, তা শুনে পুলিস আরও হতবাক! সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদে রোহিত জানান, তিনি ইউটিউব দেখে গাড়ি চালানো শিখেছেন। এরপর থেকে তিনি মাঝেমধ্যেই বন্ধুদের সঙ্গে জয়রাইডে বেরিয়ে এভাবে তীব্র গতির ‘কেরামতি’ দেখাতেন।
গার্ডেনরিচের পাহাড়পুরে বাসিন্দা রোহিত। বছর ১৯-এর তরুণের দশম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করেননি। এলাকার বাসিন্দারা জানান, রোহিতের বাবা সত্যনারায়ণ আগরওয়ালের অগাধ টাকাপয়সা। মুদিদ্রব্য, ওষুধের দোকান ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে তাঁর। বছর তিনেক আগে প্রথম বাইক কেনেন রোহিত। গত বছর বাইক চালানোর লাইসেন্স পেয়ে ফের নতুন একটি বাইক কেনেন। পাড়ার মধ্যেও বেপরোয়াভাবে বাইক চালাতেন। পাহাড়পুরের এক চা বিক্রেতা জানান, শুক্রবার রাতেও পাড়া থেকে বাইক নিয়ে বের হন রোহিত। বন্ধু শুভম দাসকে বাইকে চাপিয়ে গ্যারাজে যান। সেখানে আরও চারজন বন্ধু আসে। সবাইকে নিয়ে চা খেতে যাওয়ার বাহানায় নিজের গাড়ি চালানোর ‘স্কিল’ জাহির করতে শুরু করেন রোহিত।
কাঁচা হাতে স্টিয়ারিং ধরেই ১০০-র বেশি গতি তুলে দেন। তাতেই বিপত্তি ঘটে। চারবার পাল্টি খেয়ে উল্টে যায় গাড়িটি। মাথায় গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১৬ বছরের কিশোর শুভমের। পাশের আসনে বসা বন্ধু মারা গেলেও পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাতে ছাড়েননি রোহিত। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত তরুণ প্রথমে বলেছিলেন, পিছন থেকে একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মেরেছে। কিন্তু দক্ষিণ বন্দর থানার পুলিস ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর স্পষ্ট হয়ে যায় গোটা ঘটনা। পুলিস চেপে ধরতেই আসল ঘটনা স্বীকার করেন চালক।
অনিচ্ছাকৃত খুনের ঘটনায় ধৃতের বন্ধুরা জানিয়েছেন, ছোট থেকেই খুব জোরে বাইক চালানোর অভ্যাস রোহিতের। একাধিকবার ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে। কোনও বন্ধুই তাঁর বাইকের পিছনে বসার সাহস পেতেন না। তবে রোহিত চালাচ্ছেন, এমন চারচাকা গাড়িতে তাঁরা কেউই আগে ওঠেননি বলে দাবি করেছেন। মাস দু’য়েক আগে ইউটিউবে গাড়ি চালানোর ‘টিউটোরিয়াল’ ভিডিও দেখছিলেন রোহিত। কিন্তু হাতেকলমে প্রশিক্ষণ কোনওদিন নেননি তিনি। লাইসেন্স ছাড়াই কীভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন রোহিত? অভিযুক্তের বাবা সত্যনারায়ণ আগরওয়ালকে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি রীতিমতো উদ্ধতভাবে বলেন, ‘কোনওভাবে দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।’