সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: এ যেন ‘বাঘের ঘরেই ঘোগের বাসা’! ভারতীয় সেনা বাহিনীতেই পাকিস্তানি চর! শুক্রবার হাসিমারা সেনা ছাউনি চত্বর থেকে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পাঞ্জাব পুলিশের স্টেট স্পেশাল অপারেশন সেল (এসএসওসি)। ধৃতের নাম রাজবীর সিং। সেনা জওয়ান হিসাবে ভারত-চীন সীমান্তে মোতায়েন ছিলেন। অভিযোগ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) কাছে সেনা বাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছেন এই জওয়ান। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, শুধু পাকিস্তান নয়, সেনা বাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য চীনের লালফৌজের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিন ধৃতকে শিলিগুড়ির এসিজেএম আদালতে তোলা হয়। আদালতের সরকারি আইনজীবী সৌমিত্র সিনহা সরকার বলেন, চলতি মাসের গোড়ার দিকে আইএসআইয়ের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে পাঞ্জাবের ফাজিলকা পুলিশের এসএসওসি। তরুণীকে জেরা করে চীন সীমান্তে কর্মরত সেনা জওয়ানের সংস্রব মেলে এই গুপ্তচর চক্রে। তারপরই রাজবীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে পাঞ্জাব নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্যে ‘চিকেনস নেক’ শিলিগুড়ি, সিকিম পার্বত্য এলাকা অন্যতম। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির উপর পাকিস্তান ও চীনের নজর দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় এখান থেকে পাকিস্তানি ও চীনা চরের আনাগোনার হদিশ মিলছে। বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছে। এবার তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল খোদ সেনা জওয়ান। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাঞ্জাব পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ধৃতের বাড়ি পাঞ্জাবের তরনতারন জেলায়। সে একদা সিকিমের ভারত-চীন সীমান্তে মোতায়েন ছিল। শিলিগুড়ি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেনা সেক্টরের বিবরণ, লে-আউট প্ল্যান, সামরিক ঘাঁটি, সেনা ব্যারাকের তথ্য-নকশার মতো সংবেদনশীল তথ্য আইএসআইয়ের হ্যান্ডেলারদের কাছে পাচার করেছে বলে অভিযোগ। এই জওয়ানের সঙ্গে চীনের লালফৌজের যোগাযোগ ছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। পাঞ্জাব পুলিশের অফিসাররা জানান, ঘটনার সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দেশের সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগে গত ১০ অক্টোবর ফরিদকোটের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে পাঞ্জাব পুলিশ। ধৃতের নাম গুরনূর সিধু। ফিরোজপুর-হুসাইনিওয়ালা সীমান্ত সড়কে নির্মীয়মাণ সেতুর কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ট্যাব বাজেয়াপ্ত করা হয়। ধৃতের কাছ থেকেই মেলে রাজবীরের হদিশ। সে ওই তরুণীর সহযোগী ছিল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আইএসআইয়ের পাতা হানিট্রাপে প্রথমে ফাঁসে রাজবীর। এরপর সে দেশের সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য পাচার শুরু করে। রাজবীর ও আইএসআইয়ের মধ্যে ওই তরুণী ছিল মধ্যস্থতাকারী। এরা আইএসআইএ’র সঙ্গে হাত মিলিয়ে তথ্য পাচারের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল।



