ভুটানে হ্রদ বিপর্যয়: রাতভর আতঙ্ক, সকালে ত্রাণ শিবির থেকে বাড়ির পথে বাসিন্দারা
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার ও কুমারগ্রাম: ভুটানে হ্রদ বিপর্যয়ের জেরে আলিপুরদুয়ারের সংকোশ নদীতে হড়পা বান আসে। ভুটান সরকারের বার্তা পেয়ে রাতেই আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন মাইকিং করে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলে। ফলে বৃহস্পতিবার রাতভর চরম আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় কাটান অনেকে। 

Advertisement

প্রশাসনের সতর্কতামূলক মাইকিং শুনে ও সম্প্রতি নেপালের ভয়াবহ অবস্থার কথা মাথায় রেখে কুমারগ্রামের সংকোশ তীরবর্তী বাসিন্দা সুনীল রায়, সুবল দাস, গৃহবধূ ডলি রায়রা বাড়িঘরে তালা মেরে সপরিবার নিয়ে জাতীয় সড়কে আশ্রয় নেন। অনেকে বাড়ির ছাদে, নদীর বাঁধে চলে যান। আলিপুরদুয়ার জেলা শহরের পাশে কালজানি নদীবাঁধেও অনেকে আশ্রয় নেন। কেউ কেউ ঘরের দামি আসবাবপত্র, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বাড়ির ছাদে উঠে যান। কুমারগ্রাম, জেলা শহর ছাড়াও প্রশাসন রাতে তোর্সা নদী তীরবর্তী জয়গাঁ ও হাসিমারাতেও মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত বড়ো কোনো বিপদ না ঘটায় স্বস্তি ফিরেছে প্রশাসন ও জেলাবাসীর মধ্যে। 
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ভুটানের গাসা জেলার একটি হ্রদে ধস নামে। তার ফলে ভুটানের সিনতাপু হ্রদের প্রাকৃতিক একটি বাঁধ ভেঙে গাসার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপর্যয় নেমে আসে। ওই হ্রদের জল ভুটানের মছু নদী হয়ে সমতলে সংকোশে নামে। তাতেই সংকোশের জলস্তর হু হু করে বেড়ে যায়। পরিস্থিতি আন্দাজ করে প্রশাসন রাতেই সংকোশ, কালজানি ও তোর্সা নদী তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেয়। শুধু তাই নয়, রাতেই প্রশাসন কুমারগ্রাম ব্লকের এনকেএস, কুমারগ্রাম, চ্যাংমারি ও ভল্কা-২ পঞ্চায়েতে এলাকার ৭৬৬৮ জন বাসিন্দাকে ১৮টি অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যায়। বাসিন্দাদের জন্য খাবার ও জলের ব্যবস্থা করা হয়। উত্তর হলদিবাড়ির অন্তঃসত্ত্বা দুই মহিলাকে কুমারগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিপদ কেটে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বাসিন্দাদের মধ্যে। বন ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী তথা কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁ এদিন বলেন, ‘অনেক বড় ঘটনা ঘটতে পারত। মাত্র ১-২ ঘণ্টার মধ্যে মানুষজনকে শিফট করা গিয়েছে। এখন পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক আছে।’
ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দারা শুক্রবার সকালে বাড়ি ফিরে যান। সংকোশ তীরবর্তী পূর্ব শালবাড়ির সুবল দাস, গৃহবধূ ডলি দাস বলেন, ‘রাতে প্রশাসনের মাইকিং শুনে এক কাপড়েই পরিবার নিয়ে জাতীয় সড়কে চলে যাই। রাতভর উৎকণ্ঠায় ছিলাম। শুক্রবার ভোরে বাড়ি ফিরেছি।’ 
আলিপুরদুয়ারের মহকুমা শাসক রিচার্ড লেপচা বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কুমারগ্রামে ত্রাণ শিবির থেকে বাসিন্দারা বাড়ি চলে গিয়েছেন।’ পুলিশ সুপার অমিতকুমার শাহ জানান, ‘এনডিআরএফ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ও সীমান্তে প্রহরারত এসএসবি জওয়ানদের সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে।’ 
সেচদপ্তরের উত্তর-পূর্বের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, ‘ভুটানে হ্রদ বিপর্যয়ে সংকোশের জল যতটা বাড়ার কথা ছিল, ততটা বাড়েনি। সেন্ট্রাল রিভার কমিশন থেকে দফায় দফায় ভুটানের খবর দেওয়া হচ্ছে। আমরা সতর্ক।’ -নিজস্ব চিত্র