সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: প্রত্যন্ত কুশমণ্ডি থেকে জাতীয় ফুটবলের মঞ্চে নজর কাড়ল পল্লবী সরকার। অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল জাতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হল কুশমণ্ডির সরলা ভূপেন্দ্রনারায়ণ হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পল্লবী। অন্ধ্রপ্রদেশের মাটিতে বাংলার জার্সি গায়ে মেইন ডিফেন্ডার হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে জেলার এই প্রতিভাবান মহিলা ফুটবলার।
সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরের আরডিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় তালিমেরেন আও জুনিয়র গার্লস ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-২৭ টিয়ার-১। প্রতিযোগিতার ফাইনালে শুক্রবার মুখোমুখি হয় বাংলা ও মণিপুর। নির্ধারিত সময়ে দুই দল একটি করে গোল করায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলার মহিলা ফুটবল দল। সেই সাফল্যের খবর পৌঁছাতে কুশমণ্ডির প্রত্যন্ত গ্রামে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে।
পল্লবীর এই সাফল্যে গর্বিত স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে কুশমণ্ডির মহিলা ফুটবল মহল। কৃষক পরিবারের মেয়ে পল্লবীর বাবা চাষের পাশাপাশি ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। আর্থিক প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের জোরে বাংলা দলে জায়গা করে নিয়েছে পল্লবী।
সাফল্যের পাশাপাশি উঠে এসেছে পরিকাঠামোর অভাবের ছবি। কুশমণ্ডির মহিলা ফুটবলাররা বারবার জেলা, রাজ্য এমনকি জাতীয় স্তরে সাফল্য পেলেও উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে প্রতিভার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলে দাবি কোচ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের। প্রায় ১০ জন মহিলা ফুটবলার বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলছেন। অনেকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
কুশমণ্ডি মহিলা ফুটবল একাডেমির কোচ রঞ্জন সরকার বলেন, আমাদের মেয়েদের প্রতিভা রয়েছে। বারবার বাংলার দলে নির্বাচিত হয়ে এখানকার ফুটবলাররা সাফল্য পেয়েছে। জাতীয় স্তরে খেলেছে। কিন্তু এখনও আমরা পরিকাঠামোর সমস্যায় জেরবার। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিতে পারি না। মেয়েদের নিজেদের খরচে বিভিন্ন ক্যাম্পে যেতে হয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিমাই সরকার বলেন, স্কুলের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো বুট, গার্ড ও ফুটবল দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারি সাহায্য প্রয়োজন। বিভিন্ন ক্যাম্পে যাওয়ার খরচ বিনামূল্যে করা গেলে উপকার হবে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের পুষ্টিকর খাবারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
পল্লবী বাড়ি ফিরলে স্কুলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কুশমণ্ডির বিধায়ক তাপসচন্দ্র সরকার বলেন, ফুটবল একাডেমি ও খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি ভাবে কী করা যায় তা নিয়ে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছি। ফের এনিয়ে আলোচনা করব।