সংবাদদাতা, বারুইপুর: মথুরাপুর থেকে শুরু করে সুন্দরবনের কুলতলি, রায়দিঘিতেও এবার থিমের বাহারে জমজমাট পুজোর দেখা মিলছে। চলছে মণ্ডপ তৈরির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
মথুরাপুরের মামাভাগ্নে সমিতির পুজো এবার ৫৩ বছরে পড়েছে। প্রতি বছরেই চমক দেয় এই পুজো কমিটি। পুজো কমিটির কর্তা চন্দন দে বলেন, আকাশবাণীর ১০০ বছর পূর্তিকে ঘিরে মণ্ডপ নির্মিত হচ্ছে রেডিওর আদলে। এছাড়া থাকবে পুরানো দিনের বিভিন্ন সময়ের রেডিও। মথুরাপুর স্টেশন বাজারের পুজো এবার ৭৯ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা সুপ্রকাশ হালদার বলেন, বন্দেমাতরম এবার আমাদের থিম। জাতীয় পতাকার আদলে মণ্ডপে থাকবে বিভিন্ন বিপ্লবীদের মূর্তি। তাঁদেরকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
মথুরাপুরের ঘোষের চক গ্রামবাসীদের পুজো ২৯ বছরে পড়েছে। এবার তাঁরা রাজস্থানের কেল্লা তৈরি করে বাহুবলি থিম তৈরি করেছে। মথুরাপুরের ভেটকিপুর হ্যাপি ক্লাবের পুজো এবারে ১৪ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা পলাশ পুরকাইত বলেন, প্রতিধ্বনিতে দেবালয় এবার থিম। শিবলিঙ্গ, মহাদেব, পর্বত সবই আছে মণ্ডপে। শোলার কাজ হচ্ছে পুরো মণ্ডপে। মথুরাপুরের পুরকাইত পাড়া যুব গোষ্ঠীর পুজো এবার ৪৮ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির কর্তা সুরজিৎ দাস বলেন, প্রকৃতির আশ্রয় আমাদের থিম। প্রকৃতির উপর আধিপত্য নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানকেই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। মথুরাপুরের অন্ধমুনিতলা সর্বজনীনের থিম কাটরার বৈষ্ণব দেবীর মন্দিরে পোড়া মাটির প্রতিমা। মথুরাপুরের পাটুনিঘাটা সর্বজনীন পুজো এবার ১৮ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির তিমির হালদার বলেন, এবার আমাদের ভাবনা পরীর দেশ। সম্পূর্ণ তুলো দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। অন্যদিকে, রায়দিঘির বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পুজো এবার ৫৮ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির রাজু মিদ্যা বলেন, নেপালের হড়পা বানের জেরে অসহায় অবস্থা মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। মৈপীঠের উত্তর দেবীপুর মা নারায়ণী ক্রাউন ক্লাবের ১৮ বছরের পুজোতে দুবাইয়ের বুর্জ খালিফার আদলে নির্মিত হয়েছে মণ্ডপ। পুজো কমিটির দীপন মণ্ডল বলেন, সামাজিক সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। কুলতলির ট্যাংরাবিচি তিন পল্লি সাথী সংঘের পুজো এবারে চতুর্থ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির সমীর সর্দার, সুশোভন মণ্ডল বলেন, সামুদ্রিক জীব অক্টোপাস এবার থিম। জলজ বাস্তুতন্ত্র রক্ষার বার্তা দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে। ইতিমধ্যেই অক্টোপাস মণ্ডপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।



