কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি ও বনেদিবাড়ির পুজো ঐতিহ্যর জন্য মানুষকে টানে
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: থিমের চাকচিক্য আর বাহারি মণ্ডপসজ্জার ভিড়ে আজও কৃষ্ণনগরের বনেদি বাড়ির পুজোগুলি নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রাচীন রীতিনীতির জন্য দর্শনার্থীদের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। কোথাও রাজবাড়ির দুর্গাদালানে সাবেকি প্রতিমা, কোথাও একই মণ্ডপে দুর্গা ও কালীর আরাধনা, আবার কোথাও ধুনো পোড়ানো কিংবা কুমারীপুজোর রীতি রয়েছে। সপ্তমীর সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন বনেদি বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি থেকে তিন ইঞ্চি দুর্গাবাড়ি, নীল দুর্গাবাড়ি, নায়েকবাড়ি থেকে রায়বাড়ি প্রতিটি পুজোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

Advertisement

কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ির পুজোর সঙ্গে শহরবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।  বছরের পর বছর ধরে চলে আসা প্রাচীন রীতিনীতি, সাবেকি প্রতিমা এবং ঐতিহ্যবাহী পুজোর পরিবেশ দেখতে সপ্তমীর সকাল থেকেই রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে ভিড় করেন বহু মানুষ। রাজবাড়ির পঙ্খ অলংকৃত দুর্গাদালানে বর্মে সজ্জিত দেবী দুর্গা অধিষ্ঠিত। দেবীর পিছনে রয়েছে অর্ধগোলাকৃতি সাবেকি বাংলা চালি। চালির একদিকে দশাবতার, অন্যদিকে দশমহাবিদ্যা এবং মাঝখানে পঞ্চানন শিবের উপস্থিতি।
রাজবাড়ির পাশাপাশি সপ্তমীতে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃষ্ণনগরের তিন ইঞ্চি দুর্গাবাড়ি। এই বাড়িতে দুর্গা ও কালীর একসঙ্গে পুজো হয়। শুধু কৃষ্ণনগর নয়, দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ এই পুজো দেখতে আসেন। এই বাড়ির পুজোয় কলাবউকে কার্তিক ঠাকুরের পাশে রাখা হয়।
অন্যদিকে, কৃষ্ণনগরের রায়বাড়ির পুজোতেও সপ্তমীর সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। কথিত আছে, রানি ভবানীর উদ্যোগে এই বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল। এই বাড়ির পুজোয় পরিবারের বধূদের নামেই সংকল্প করা হয়। 
প্রাচীন রীতিনীতি পালনের জন্য নায়েকবাড়ির দুর্গাপুজোও সপ্তমীতে বহু মানুষকে টেনেছে। এই বাড়ির পুজোর আকর্ষণ হল ধুনো পোড়ানো। বাড়ির সধবা মহিলারা মাথায় ধুনোর সরা নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে এই প্রথা পালন করেন। নবমীতে কাদা খেলার প্রথাও রয়েছে এই বাড়ির পুজোয়। 
কৃষ্ণনগরের নীল দুর্গাবাড়ির পুজো ঘিরেও আলাদা উন্মাদনা থাকে। এখানকার দেবী দুর্গার স্বতন্ত্র রূপ দেখতে শহরের পাশাপাশি বাইরের বহু মানুষও হাজির হন। শাক্তমতে পুজো হওয়ায় দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। এই বাড়ির আকর্ষণ হল কুমারীপুজো। 
আধুনিক থিমের বৈচিত্র্য ও মণ্ডপসজ্জার প্রতিযোগিতার মধ্যেও কৃষ্ণনগরের বনেদিবাড়ির দুর্গাপুজো যে আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল, সপ্তমীর ভিড় যেন সেই ছবিই তুলে ধরল। বনেদি বাড়ির পুজো দেখতে মানুষের আগ্রহ প্রমাণ করল, উৎসবের চাকচিক্যের পাশাপাশি ঐতিহ্যের প্রতি টান আজও অমলিন।