Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রচুর অর্ডার মিলেছে, মাটির জোগান না থাকায় বিপাকে কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা

কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা মাটির তীব্র অভাবে বিপাকে। দুর্গাপুজোর আগে অর্ডার থাকলেও মাটির সংকটের কারণে কাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে। বিস্তারিত পড়ুন।

প্রচুর অর্ডার মিলেছে, মাটির জোগান না থাকায় বিপাকে কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা
  • ১২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বাংলার মৃৎশিল্পের রাজধানী হিসেবে পরিচিত কৃষ্ণনগর। যুগের পর যুগ ধরে এখানকার শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি প্রতিমা ও মাটির শিল্পকর্ম শুধু রাজ্য বা দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আজ এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। প্রতিমা তৈরির মূল উপকরণ মাটির তীব্র অভাবে কার্যত বিপাকে পড়েছেন কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা। তিন মাসের কিছু বেশি সময় বাদেই দুর্গাপুজো-সহ একাধিক উৎসব। ইতিমধ্যেই হাতে প্রচুর অর্ডার জমা পড়তে শুরু করেছে, অথচ পর্যাপ্ত মাটি না পাওয়ায় প্রতিমা নির্মাণের কাজ এগোচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ফলে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই শিল্প।

Advertisement

বেশিরভাগ মৃৎশিল্পীরা বলেন, প্রতিবছর এতদিনে পুরোদমে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যায়। কারণ পুজো যত এগিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে অর্ডারের চাপ। সময়মতো সমস্ত প্রতিমা প্রস্তুত করতে হলে কয়েক মাস আগেই কাজ শুরু করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু এ বছর মরশুমের শুরু থেকেই তাঁরা বিপাকে  পড়েছেন। এ বছর পর্যাপ্ত পরিমাণে মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। যে সামান্য মাটি  মিলছে, তার দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, সেই মাটির মানও খুব একটা ভালো নয়। ফলে প্রতিমা নির্মাণের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে শিল্পীদের।
এক প্রবীণ মৃৎশিল্পী গীতা পাল জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই মাটি পাওয়া নিয়ে খুব সমস্যা হচ্ছে। যা পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম নিচ্ছে দ্বিগুণের বেশি। তার উপর মাটির মান ও খারাপ। ফলে কাজ করতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও সব কাঠামো করে একবার করে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার করার আগেই মাটি নিয়ে সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে ক্রমশ সময় চলে যাচ্ছে। ঠিকমতো মাটি না পাওয়া গেলে কিভাবে কাজ সম্পন্ন হবে, সেই চিন্তায় আছি। আর এক মৃৎশিল্পী মিলন পাল বলেন, মাটি না থাকায় প্রতিমা নির্মাণের কাজ বারবার থমকে যাচ্ছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ভালো মানের মাটি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও অনেক বেশি। সরকারি উদ্যোগে যদি কোনো ব্যবস্থা হয়। খুব ভালো হতো।
শিল্পী মহলের আশঙ্কা দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হবে। কারণ  সময় যত এগোবে পুজো কাছে চলে আসবে, তখন সময়মতো প্রতিমা সম্পূর্ণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। এর ফলে শুধু শিল্পীরাই নন, বিভিন্ন পুজো কমিটিও সমস্যায় পড়তে পারে। তাই প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মাটির জোগানের ব্যবস্থা করুক।  না হলে আসন্ন উৎসবের মরসুমে প্রতিমা নির্মাণে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিমা নির্মাণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ