নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাত-বিরেতে কৃষ্ণনগরের সরকারি অতিথিশালা থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ মামলায় শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে সামান্য স্বস্তি মিলল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর। রাজ্য সরকারের পক্ষে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সওয়াল করেন। মহুয়ার হয়ে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। গত ১ সেপ্টেম্বর কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে প্রায় মধ্যরাতে মহুয়াকে ঘর ছেড়ে দিতে বলা হয়। এভাবে একজন সাংসদ, তারউপর মহিলা হওয়া সত্ত্বেও কেন জেলা প্রশাসন তাঁকে হেনস্তা করল? এই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। যদিও এদিন তুষার মেহতা বলেন, সার্কিট হাউসে সংস্কারের কাজ চলছে। মাত্র দু’টি ঘর খালি রাখা ছিল সংস্কার কাজের সঙ্গে জড়িত অফিসারদের জন্য। তাই মাননীয় সাংসদকে অন্যত্র যেতে বলা হয়। হেনস্তা করা হয়নি। তাছাড়া বুকিংয়ের সুবিধার কথা ভেবেই কমপক্ষে চারদিন অগ্রিম জানানোর নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। যদিও পালটা মহুয়ার আইনজীবী আদালতে জানান, ওই অতিথিশালায় ২০টি ঘর আছে। অথচ ঘর খালি নেই বলা হচ্ছে। অন্য চারজনকে ঘর দেওয়াও হয়েছিল। স্রেফ আমার মক্কেলকে হেনস্তা করতেই রাত বিরেতে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। অথচ বরাবর তিন চার ঘণ্টা আগে খবর দিয়েই গত ১০ বছর কাজের প্রয়োজনে সার্কিট হাউসে যান সাংসদ। এবারই প্রথম এরকম হল। এখন বলা হচ্ছে কমপক্ষে চারদিন আগে জানাতে হবে। উভয়পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এবার থেকে প্রোটোকল তৈরি হোক। সেই মতো আগেভাগে জানিয়ে বুকিং হওয়াই কাম্য। তাহলেই আর সমস্যা হবে না আশাকরি। মহুয়া মৈত্রকে একদিন আগে বুকিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই নদীয়া জেলা প্রশাসন যে কমপক্ষে চারদিন আগে জানানোর নোটিস দিয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে এমপি ল্যাডের ১৮ টি প্রকল্প বাকি পড়ে থাকলেও জেলাশাসক সহযোগিতা করছেন না, ইচ্ছাকৃত এলাকার উন্নয়ন আটকে রেখেছেন বলেও মহুয়ার অভিযোগ। যদিও এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদনের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।



