সংবাদদাতা, কাটোয়া: দুর্গোৎসব ঘিরে বাংলার মৃৎশিল্প যেমন বিকশিত হয়েছে। অন্যান্য হস্তশিল্পেরও প্রসার ঘটেছে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে। কাঠের বাংলা সাবেকিয়ানার দুর্গামূর্তি দিয়েই এবার সাজবে তিলোত্তমা কলকাতার এক পুজো মণ্ডপ। আর তার বরাত পাওয়ায় কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের শিল্পীদের শিল্পকলায় যেন নব প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে।
দু’ফুট, চার ফুটের দুর্গার নানা রূপের মূর্তি তৈরি হচ্ছে কাঠ দিয়ে। আর তা দিয়েই সাবিকায়ানায় সেজে উঠবে কলকাতার বিধাননগরের একটি পুজো মণ্ডপ। বাংলা মুখ, মৃন্ময়ী মুখ, সিংহ বাহিনী রুপ সহ নানা ভাবে মা দুর্গার মূর্তি তৈরি হচ্ছে কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের শিল্পী অক্ষয় ভাস্করের হাতে। মায়ের মুকুট থেকে গয়না সবই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে কাঠের নকশায়। সূক্ষ্ম কারুকাজ দিয়ে শিল্পীর শিল্পসত্তা ফুটে উঠছে মা দুর্গার মুখমণ্ডলে। গোটা মণ্ডপ তৈরি হবে কাঠের দুর্গার মূর্তি দিয়ে৷ থিম দিয়ে এমন সাজানোর বরাত কয়েকমাস আগেই শিল্পী অক্ষয় ভাস্করকে দেওয়া হয়েছিল৷ এখন শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে৷ শিল্পী অক্ষয় ভাস্কর বলেন, কাঠ দিয়েও আমাদের নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। এখন কাঠের দুর্গামুখেরও নানা পরীক্ষা আমরা করেছি। আসলে সাবেকিয়ানার কোনো তুলনাই হয় না। তাই দু’ফুটের মা দুর্গার মূর্তি তৈরি করছি স্রেফ কাঠ দিয়ে৷ আর তা পুজো মণ্ডপে সাজানো হবে। কাঠের উপর ছিনি হাতুড়ি দিয়ে নানারকম শিল্পকলা ফুটিয়ে তোলা এসব ছিল শিল্পীদের পূর্বপুরুষের শিক্ষা। তবে কাঠের পুতুল আর পেঁচা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ ছিল কাটোয়া- ২ ব্লকের অগ্রদ্বীপের কাষ্ঠশিল্পীরা। এরপর আফ্রিকান ডলের আদলে তৈরি বাঙালির দুর্গাপ্রতিমাও ইতিমধ্যে নজর কেড়েছিল সবার৷ কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের কাষ্ঠশিল্পী অক্ষয় ভাস্করের হাতে তৈরি নানা রকম দুর্গা প্রতিমা বিদেশিদেরও মন কেড়েছিল আগে৷ অক্ষয় ভাস্করের দাদু শম্ভুনাথ ভাস্করও ছিলেন একজন রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিল্পী। দাদুর এবং বাবার হাত ধরেই কাষ্ঠশিল্প জগতে পা রাখেন অক্ষয়। এখন স্ত্রী এবং এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে অগ্রদ্বীপ স্টেশনের কাছেই ঠাঁই মিলেছে অক্ষয়ের। সারাবছরই কাঠের উপর নানারকম শিল্পকলা তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন শিল্পী। কাষ্ঠশিল্পী ঈশ্বর হালদারের কথায়, আমরা বাঙালি ঘরানাকে বাদ দিইনি। এক ফ্রেমের মধ্যে সপরিবারে দেবীদুর্গাকে কাঠের মধ্যে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আদি রূপ দেখে দর্শনার্থীদের সত্যিই মন কাড়বে৷