নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একেবারে ‘জেন জি’ স্টাইলে আরও একটি মিছিল দেখল শহর কলকাতা। মিছিলের ট্যাবলো থেকে বাজল ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো!’ চলল র্যাপ। তারপর ‘জ্ঞানেশ তো ভোট চোর’ গানের সঙ্গে মিছিলকারীরা মাঝে মধ্যে নেচেও উঠলেন। তরুণ-তরুণীদের হাতে দেখা গেল নতুন ভাষার পোস্টার। যেখানে লেখা, ‘এক কচৌরি, দো চায়ে, জ্ঞানু ব্রো বাই বাই!’ কেউ আবার কঙ্কালের মুখোশ পরেও এলেন। রবিবার দুপুরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে মিছিল হল শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা। মিছিল শেষে সমাবেশ থেকে আওয়াজ উঠল, ‘বিজেপি ভারত ছাড়ো’।
দিন কয়েক আগে আইসার সভাপতি নেহা বোরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বলে গিয়েছিলেন, ‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে ব্যথা পায় কলকাতা!’ রবিবার কলকাতার রাস্তায় যখন ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’ স্লোগান চলছে, সেই সময় দিল্লির রাজপথ রক্তাক্ত হচ্ছে এসএফআই নেতা আদর্শ এম সাজির রক্তে। নেহার সেদিনের কথা সত্যি করেই জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে, দিল্লিতে ছাত্রদের উপর পুলিশি আক্রমণকে ধিক্কার জানিয়ে কলকাতার রাস্তায় হাঁটল বাম ছাত্র-যুবরা। এই মিছিলে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির রাজ্য শাখা। তাদের নেতৃত্বও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। এদিন পুলিশি নিরাপত্তাও ছিল আঁটসাঁট। একেবারে বর্ম পরে পুলিশ দাঁড়িয়েছিল ধর্মতলার মোড়ে। মিছিল থেকে স্লোগান উঠল ক্যাম্পাসে বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে, ছাত্র ভোটের দাবিতে। এদিনের মিছিলে সত্যজিত্ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকেও পড়ুয়ারা যোগ দিয়েছিলেন। তবে এদিনের মিছিলের কলেবর ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যে মিছিল হয়েছিল, তার তুলনায় ছোটোই ছিল। বাম নেতৃত্ব যদিও এর পিছনে পুজোর আগের শেষ রবিবারের যুক্তি খাড়া করছেন। আবার অনেকের মতে, জনসমাগম কিন্তু খুব কম হয়নি। সাড়ে চারটে নাগাদ মিছিল ধর্মতলা মোড়ে পৌঁছালে, গোটা এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। তারপর নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয়, রানি রাসমণি রোডে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হবে। ট্যাবলোর উপর থেকেই সমস্ত বাম দলের নেতৃত্ব বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ থেকে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘গোটা দেশ জেগে উঠেছে। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের স্মৃতি উসকে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় তাণ্ডব চলেছে দিল্লিতে। যতদিন না দেশবিরোধী জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ হচ্ছে, আমরা বিজেপি-আরএসএসের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেব। এটা দেশ বাঁচানোর লড়াই। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। তাই আমরা বলছি, বিজেপি ভারত ছাড়ো।’
মিছিলে জ্ঞানেশ বিরোধী পোস্টার। -নিজস্ব চিত্র



