নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভিন রাজ্যে সাইবার জালিয়াতির টাকা মিউল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঢুকছিল কলকাতার বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে। সেই টাকায় কেনা হচ্ছিল সোনার অলংকার বা বিস্কুট। সেগুলি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল বিভিন্ন জায়গার সাইবার প্রতারক চক্রের পান্ডাদের কাছে। এনসিআরপি পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে এক মহিলাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করল গলফগ্রিন থানা। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের সাইবার প্রতারণা চক্রের যোগ মিলেছে বলে খবর। এনসিআরপি পোর্টালের তরফে রাজ্যকে তথ্য দিয়ে জানানো হয় কলকাতার কয়েকটি মিউল অ্যাকাউন্টে দিল্লি, রাজস্থানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা ঢুকেছে। ভিন রাজ্য থেকে আসা এই টাকা সাইবার জালিয়াতির। অ্যাকাউন্টের নথি দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশকে। তার ভিত্তিতে জানা যায় এগুলি খোলা হয়েছে গলফগ্রিন এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির নামে। তার ভিত্তিতে গলফগ্রিন থানা কেস রুজু করে তদন্তে নামে। যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছিল তাদের চিহ্নিত করা হয়। দেখা যায় এটিএম ব্যবহার করে আবার এই টাকা তুলেও নেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে এই চক্রের মাথায় রয়েছে ইরফান নামে এক মহিলা। এরপর চলতি মাসের শুরু থেকে একে একে চারজনকে ধরা হয়। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরে অভিযুক্ত মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ভিন রাজ্যের সাইবার জালিয়াতদের। তাকে বলা হয়, অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিলে ভালো টাকা মিলবে। ওইসঙ্গে প্রতারণার টাকা গয়নায় বদলে দিতে হবে। এতে রাজি হয় ওই তরুণী। এরপর তার পরিচিতদের টাকার লোভ দেখিয়ে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেয়। সেখানে প্রতারণার টাকা আসতে শুরু করে। এরপর সেই টাকা তোলার জন্য অন্য এক তরুণ ছিল। সে বিভিন্ন এটিএম ঘুরেঘুরে জালিয়াতির টাকা তুলত। সেই টাকা জমা করত ওই মহিলা কিংপিনের কাছে। অভিযুক্ত তরুণী বিভিন্ন সোনার দোকানে গিয়ে নগদে সোনার গয়না বা বিস্কুট কিনত বলে জেনেছেন অফিসাররা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দোকান থেকে এই সংক্রান্ত ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তরুণীর মাধ্যমে গয়না বা বিস্কুট কোন সাইবার জালিয়াতের হাতে গিয়েছে তাকে জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে।



