


সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুর ও আশপাশের এলাকায় ছেলেধরা গুজব ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক। সন্দেহের বশে নিরীহ মানুষকে মারধরের ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও গুজব রুখতে শনিবার বোলপুরে মাইকিং করে সচেতনতার প্রচার চালাল পুলিশ।
গত কয়েকদিন ধরে বোলপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছেলেধরা নিয়ে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এর জেরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোথাও সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই অনেকেই তাকে ছেলেধরা মনে করে ঘিরে ধরছেন। এমনকি, মারধরের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। কয়েকদিন আগে বোলপুর থানার ঘিদহ গ্রামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধরের অভিযোগ ওঠে। গ্রামবাসীদের একাংশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। পাড়ুই থানার ব্রাহ্মণডিহি, মঙ্গলডিহি সহ কয়েকটি গ্রামেও ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেক গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিতে শুরু করেছেন। দল বেঁধে গ্রাম ঘুরে টহল দিচ্ছেন বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষজন।
এরইমধ্যে গত মঙ্গলবার মির্জাপুর এলাকায় আরএকটি ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার এক বাসিন্দা রায়পুর হয়ে কাকুটিয়া যাচ্ছিলেন। সেইসময় কয়েকজন তাকে ছেলেধরা সন্দেহে আটকায়। পরে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। জখম অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে প্রায় দু’ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করেন আদিবাসী মানুষজন। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নেয় পুলিশ। শনিবার বোলপুর থানার পক্ষ থেকে শহর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে টোটোয় মাইক লাগিয়ে প্রচার চালানো হয়। মাইকিং করে জানানো হয়, ছেলেধরা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে নিরীহ মানুষ সন্দেহের শিকার হচ্ছে। মারধরের ঘটনাও ঘটছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে, কোনো গুজবে কান না দিতে। যাচাই না করে কোনো খবর না ছড়াতেও বলা হচ্ছে। কোথাও সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সরাসরি বোলপুর থানায় খবর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহের বশে কাউকে মারধর করা আইনত অপরাধ। এমন ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, মানুষকে সচেতন করতেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে। আশা করা যায়, এতে গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো অনেকটাই কমবে।