Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ণমন্ত্রী পদে শপথ ক্ষুদিরাম টুডুর, মাতোয়ারা রানিবাঁধ

তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রীর কেন্দ্র থেকে জোড়াফুলের বিরুদ্ধেই লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে শনিবার রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রী হিসেব শপথ নিলেন রানিবাঁধের পদ্ম বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি মন্ত্রী হওয়ায় খুশি রানিবাঁধ এলাকার সাধারণ মানুষজন সহ দলের নেতৃত্ব ও কর্মীরা

পূর্ণমন্ত্রী পদে শপথ ক্ষুদিরাম টুডুর, মাতোয়ারা রানিবাঁধ
  • ১০ মে, ২০২৬ ০৬:২৬
Prefer us on Google

সংবাদদাতা,খাতড়া: তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রীর কেন্দ্র থেকে জোড়াফুলের বিরুদ্ধেই লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে শনিবার রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রী হিসেব শপথ নিলেন রানিবাঁধের পদ্ম বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি মন্ত্রী হওয়ায় খুশি রানিবাঁধ এলাকার সাধারণ মানুষজন সহ দলের নেতৃত্ব ও কর্মীরা।

Advertisement

উল্লেখ্য, রানিবাঁধ এলাকার বাগডুবি গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় শিক্ষক ও দীর্ঘদিনের লড়াকু আদিবাসী নেতা হিসাবে পরিচিত ক্ষুদিরামবাবু। আদিবাসী কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবে বছরের পর বছর ধরে দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ওই কেন্দ্রে গত ২০১৬ ও একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী জোৎস্না মান্ডির বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হয়েছিলেন ক্ষুদিরামবাবু। কিন্তু ২০২৬ তাঁকে নিরাশ করেনি। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে জোৎস্না মান্ডিকে তৃণমূল টিকিট না দিয়ে ওই কেন্দ্রে নতুন মুখ তনুশ্রী হাঁসদা›কে টিকিট দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না। তৃণমূল প্রার্থীকে ৫২,২৬৯ ভোটে হারিয়ে ক্ষুদিরামবাবু জয় ছিনিয়ে নেন। গত দু’দুবার হারলেও এবার হাফ সেঞ্চুরির উপর ভোটে হারিয়ে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি ওই কেন্দ্রে গেরুয়া ঝড় তুললেন পোড় খাওয়া এই বিজেপি নেতা। অন্যদিকে, স্থানীয় বিধায়ক হিসাবে খুদিরামবাবু শনিবার কলকাতায় অন্য সতীর্থ বিধায়কদের পাশাপাশি মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন। সেই খবর পেয়ে ও ছবি দেখে খুশি স্থানীয় মানুষ সহ রানিবাঁধের দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা। তবে তাঁর মন্ত্রীত্বের দপ্তর জানতে পারা না গেলেও পূর্ণমন্ত্রী হিসাবেই শপথ নেন তিনি। 
রানিবাঁধ বিধানসভা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সিপিএমের পর তৃণমূলের কাছে মানুষ খুব আশা রেখেছিল এলাকার সমস্যার সমাধান নিয়ে।  কর্মসংস্থানের আশা নিয়ে। কিন্তু আশ্বাস থাকলেও সেভাবে সমস্যাগুলির সমাধান হয়নি। তাই এবার এলাকার মানুষ বিজেপির উপরই ভরসা রেখেছেন। কোথাও মনে হয়েছে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিনের সরকার তৈরি হলে এই অবস্থার অবসান হবে। তাই মানুষ দু’হাত তুলে পদ্মে ভোট দিয়েছেন। 
অন্যদিকে, রানিবাঁধের বাসিন্দা তথা সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন মাহাতো বলেন, ক্ষুদিরামবাবুর পূর্ণমন্ত্রী হওয়ায় আমরা খুশি। আমরা আশাবাদী  জঙ্গলমহলজুড়ে সার্বিক উন্নয়ন হোক। 
এনিয়ে রানিবাঁধের বাসিন্দা তথা বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সম্পাদক শান্তনু সিংহ বলেন, আমাদের রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন, অনেক সময় হারব জেনেও আমরা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু হারের পর অন্য দলে যোগ দিইনি। সেরকমই আমাদের কেন্দ্রের এবারের যিনি প্রার্থী ছিলেন, তিনি দু-দু’বার এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে হারলেও দল ছাড়েননি। বরং দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। এবার আমাদের বিধায়ক পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় আমরা খুশি। এমনকী, সিপিএম ও তৃণমূলের রানিবাঁধের প্রাক্তন বিধায়করা বিগত সরকারগুলিতে মন্ত্রিত্ব পেলেও কখনও পূর্ণমন্ত্রী হননি। এই প্রথম আমাদের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ