


দীপারুণ ভট্টাচার্য: জায়গাটা প্রবীরের চেনা চেনা লাগছে। বাড়িটার পেছনে বিরাট বাগান। কত রকম গাছ যে সেখানে আছে, বলে শেষ করা যাবে না। আকাশে মেঘ নেই। তাই দূরের পাহাড়ে বরফের আস্তরণ দেখা যাচ্ছে। একটা অচেনা পাখি এক মনে কাউকে ডাকছে। বড় পাথরের আড়ালে দাঁড়িয়ে পাখিটাকে খুঁজছিল প্রবীর। হঠাৎ ছেলেটা এসে বলল, ‘পাখি ধরবি?’ তার পরনে খাকি হাফ প্যান্ট আর জামা। মুখের আদলটা চেনা লাগছে। প্রবীর একটু পিছিয়ে গিয়ে বলল, ‘পাখি ধরতে নেই। মা বকবে।’ ছেলেটা হেসে ফেলল, ‘ধুর বোকা। মা জানবে কী করে! আমার সঙ্গে আয়।’ বলেই সে প্রবীরের হাতটা চেপে ধরল। টানাটানি করেও হাতটা ছাড়াতে পারছে না প্রবীর। দারুণ ভয়ে সে চিৎকার করে উঠল, ‘মাগো আমাকে বাঁচাও!’
নবনীতা ধাক্কা দিয়ে বলল, ‘মা, পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছে।’ স্বপ্নটা ভেঙে যেতেই বিছানায় উঠে বসল প্রবীর। তারপর ধীরে ধীরে বাথরুমে গেল। ছেলেটা মাঝেমাঝেই স্বপ্নে আসছে। কোনও কোনও স্বপ্নে প্রবীরের মা থাকেন। ছেলেটা নানানভাবে তার ক্ষতি করতে চায়। আর মা এসে তাকে রক্ষা করে। স্বপ্নগুলো মোটামুটি এইরকম। ল্যাম্পপোস্টের এক টুকরো আলো পর্দার ফাঁক গলে পড়েছে মাম্পির মুখের উপর। তার ঘুমন্ত মুখটা বড়ই সুন্দর লাগছে। ছোটরা কেমন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। নবনীতার ঘুম বড়ই পাতলা। আলতো হাতে দরজা খুলে লিভিং রুমে এসে দাঁড়াল প্রবীর। পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোর হবে। বারবার একই রকম স্বপ্ন দেখার অর্থ কী! মুখটা তার মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। যদি সে ছবি আঁকতে পারত, তাহলে...। স্বপ্ন দেখতে দেখতে প্রতিবার ঘুম ভেঙে যায়। একদিন স্বপ্নটা শেষ পর্যন্ত দেখতে ইচ্ছে হয়!
মায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। ডিমেনশিয়া আর পারকিনসনের যৌথ আক্রমণে একজন শক্ত মহিলা দেখতে দেখতে অসহায় হয়ে পড়েছে। বাবার মৃত্যুর পর মা একাই প্রবীরকে মানুষ করেছে, বহু কষ্টে। আজ সেই মা নিজের দৈনন্দিন কাজটুকুও করতে পারে না! তার অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতরটা কষ্টে কুঁকড়ে যায় প্রবীরের। এ ঘরের দরজা বন্ধ করা হয় না। হালকা আলো জ্বলে সারারাত। মায়ের কাছাকাছি যেতেই বললেন, ‘খোকা, এলি? দাঁড়া জল দিচ্ছি।’ কথাটা শোনা মাত্র রক্ত নড়ে উঠল। মা তাকে বাবু বলে, খোকা নয়! তাহলে খোকা কে! তাছাড়া, যে জল গড়িয়ে খেতে পারে না, সে অন্যকে জল দেবে কীভাবে!
***
‘তোমার কি আজ দেরি হবে?’ কম্পিউটার থেকে মুখ তুলে তাকাল প্রবীর। বস, রঞ্জন রায়। বাড়ি ফেরার সময় তিনি প্রবীরকে মেট্রো স্টেশনে নামিয়ে দেন। ঘড়ি দেখল প্রবীর। কাজের চাপে বাড়ির কথা ভুলেই গিয়েছিল সে। বাড়ি ফিরে মাকে রোজ সে ধরে ধরে হাঁটায়। নইলে কিছুতেই মা হাঁটে না। নবনীতা সারাদিন মায়ের সেবা করে। সন্ধেবেলা তারও একটু রিলিফ চাই। মৃদু হেসে প্রবীর বলল, ‘দু মিনিট।’
গাড়িতে উঠে রঞ্জন প্রশ্ন করলেন, ‘দিন পনেরোর জন্য মুম্বই অফিসে যাওয়া কি তোমার পক্ষে সম্ভব? মাসিমা আছেন কেমন?’ রঞ্জন খুব ভালো মানুষ। তাঁর প্রতি প্রবীরের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বলল, ‘একই রকম’।
‘নিউরোলজিস্ট কী বলছেন?’
‘ওষুধপত্র আর হাঁটাচলা... এছাড়া কিছু করার নেই। মা একদম হাঁটতে চায় না। তার ধারণা উঠে দাঁড়ালেই পড়ে যাবে।’
‘মাসিমা সবাইকে চিনতে পারেন?’
‘তা পারে, তবে মাঝে মাঝে মায়ের সব গুলিয়ে যায়। নবনীতাকে প্রশ্ন করে, আমার ছেলে কোথায়? সে বলে, অফিসে গেছে। মা তখন বলে, আমার ছেলে তো ছোট। ও স্কুলে না গিয়ে অফিসে কেন যায়? মাম্পির সঙ্গে মায়ের দোস্তি সব থেকে বেশি। সে স্কুল থেকে ফিরে ঠাকুরমার সঙ্গে খেলা করে। ওই সময়টায় মা সব থেকে খুশি থাকে।’
‘মাসিমার কেসটা ভালো বলতে হবে। আমার পাড়ায় এই রোগী একজন আছেন। তিনি তো বাড়ির লোকদেরই চিনতে পারেন না। ছেলের বউকে ভাবেন, কাজের লোক। স্বামীকে ভাবেন দারোয়ান। কেবল ছেলে আর নাতির সঙ্গে তার সম্পর্ক। আচ্ছা, এই সময় মানুষ কি রক্তের সম্পর্ককে আঁকড়ে
ধরতে চায়?’
‘হতে পারে।’
‘সেদিন কী হয়েছে শোন। সকালে অফিস আসছি। দেখি সেই মাসিমা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। পরনে ভালো শাড়ি, কিন্তু খালি পা। হাতে গামছা আর ভ্যানিটি ব্যাগ। সন্দেহ হতেই গাড়ি থামিয়ে প্রশ্ন করলাম, কোথায় যাবেন? বললেন, আমার বাড়ি, জলপাইগুড়ি। সেখানে নাকি তাঁর বাবা, মা, ভাই সবাই আছে। আমি বললাম, যাবেন কীভাবে? বলল, ট্রেনে। বললাম, গাড়িতে উঠুন স্টেশনে নামিয়ে দিচ্ছি।’
‘তারপর?’
‘বাড়ির সামনে গাড়ি থামিয়ে বললাম, এসে গেছি! এখন চব্বিশ ঘণ্টা ওদের সদর দরজায় তালা দেওয়া থাকে।’
এতক্ষণ কথা বলার পর রঞ্জন একটু থেমে বললেন, ‘ডিমেনশিয়াতে ভুলে গেলেও ছোটবেলা কিংবা যৌবনের স্মৃতি কিন্তু ঠিক থাকে। বিষয়টা তোমার মায়ের উপর পরীক্ষা করে দেখতে পার।’ মেট্রো স্টেশনে নামতে নামতে প্রবীর বলল, ‘মুম্বই কবে যেতে বলছেন? সেই মতো একটা আয়া
রাখতে হবে।’
***
আজও নবনীতার ধাক্কায় ঘুমটা ভাঙল, ‘মায়ের গলা পাচ্ছি। তাড়াতাড়ি দেখ তো।’ প্রবীর মায়ের ঘরে যেতেই তিনি বললেন, ‘খোকা এসেছে। দরজাটা খুলে দে। আমি জল ভরে আনছি।’ মা খাট থেকে পড়েই যেত, যদি না প্রবীর তাকে ধরে ফেলত। অনেকক্ষণ গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার পর সে প্রশ্ন করল, ‘খোকা কে?’ উত্তর দেওয়ার আগেই মা ঘুমিয়ে পড়ল। শেষ রাতে স্বপ্নটা আবার দেখল প্রবীর। মোটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ছেলেটা। হঠাৎ ছুটে এসে সে চেপে ধরল তার হাত। তারপর টানতে টানতে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়ে বলল, ‘ঝাঁপ দে।’ অনেক নীচে জলের স্রোত দেখা যাচ্ছে। ভয়ে প্রবীরের সারা শরীর কাঁপছে। ছেলেটা নিজে ঝাঁপ দিয়ে পড়ল। তারপর চিৎকার করে বলল, ‘ঝাঁপ দে।’ মাথাটা সম্পূর্ণ খালি হয়ে গিয়েছে প্রবীরের। খুব হাওয়া দিচ্ছে আজ। কুয়াশার ঝাপটা এসে লাগছে তার চোখে মুখে। ঝাঁপ দেওয়ার পূর্ব মুহূর্তে মা পেছন থেকে জাপটে ধরল তাকে।
ঘুম ভাঙতে প্রবীর বুঝল বেলা হয়ে গিয়েছে। মাম্পি এখন স্কুলে। লিভিং রুমের চেয়ারে বসে মা চা খাচ্ছে। প্রবীর প্রশ্ন করল, ‘কাল রাতে কে এসেছিল?’ মা শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রবীরের দিকে। পাশে বসে তার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে প্রবীর প্রশ্ন করল, ‘খোকা কে মা?’ মা উত্তর দিল না। ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলল। রান্নাঘর থেকে নবনীতা বলল, ‘আজ তোমার অফিস নেই?’
মেট্রোর মধ্যে ভালো সিগন্যাল থাকে না। নবনীতার চিৎকার কেটে কেটে আসছে, ‘মা কেমন যেন করছে। তাড়াতাড়ি বাড়ি এসো।’ প্রবীর বাড়ি ফিরে দেখল মা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে ডান হাত আর পা একটু একটু নড়ছে। ডাক্তার বললেন, ‘সেরিব্রাল। তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান।’ হাসপাতালেও দু’দিনের বেশি মাকে রাখা গেল না।
***
মাঝে মাঝে দুঃখের মধ্যে দিয়েও শান্তি আসে! বিষয়টা মুখাগ্নি করতে গিয়ে প্রবীর উপলব্ধি করেছিল। কর্মচঞ্চল মা যে কোনওদিন জড়ভরত হয়ে যাবে, এটা সে ভাবতেই পারেনি। ভালোই হয়েছে। মা মুক্তি পেয়েছে। শুধু মা কেন। গত আট-নয় বছর নবনীতা, মাম্পি এমনকী সে নিজেও প্রায় গৃহবন্দি। এবার সবাই নিজের নিয়মে বাঁচবে। নিশ্চয়ই মাও খুশি হবে। মা তো কখনও কারও খারাপ চায়নি।
শ্রাদ্ধের মন্ত্র পড়ছিলেন হরিনাথ ভট্টাচার্য। একটু থেমে বললেন, ‘ওঁর কোনও প্রিয় জিনিস থাকলে ছবির পাশে রাখতে পারেন।’ প্রবীর অনেকদিন পর মায়ের বইয়ের আলমারিটা খুলল। একসময় মা বইয়ের পোকা ছিল। অনেকদিন সে পাট চুকেছে। তবুও একটা বই যদি দেওয়া যায়! খুঁজতে খুঁজতে লাল কাপড়ে মোড়ানো একটা বই চোখে পড়ল। এটা কী! খুলে দেখার আগেই হরিনাথবাবু তাড়া দিলেন। প্রবীর বইটা রাখল মায়ের ছবির পাশে।
ছাদে পরশুর নিয়মভঙ্গের জন্য ত্রিপল লাগানো হচ্ছে। একজন পুরোহিত গীতা পাঠ করছেন। হরিনাথের কাজ শেষ হতেই প্রবীর তাঁকে স্বপ্ন ও খোকার কথা বলল। ‘আমরা ছোটবেলায় চা-বাগানে থাকতাম। বাবা মারা যাওয়ার পর আমি আর মা কলকাতায় চলে আসি। স্বপ্নের সঙ্গে ওই চা-বাগানের মিল আছে। কিন্তু খোকা বলে তো কেউ ছিল না!’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে হরিনাথ বললেন, ‘মৃত্যুর আগে মানুষ প্রিয়জনের দেখা পায়। শাস্ত্র বলে তারা পথ প্রদর্শক। আচ্ছা, তোমার বাবার ডাক নাম খোকা নয় তো? কিংবা মামা বা ওই রকম কেউ যিনি মারা গেছেন?’ না সূচক মাথা নাড়ল প্রবীর। দাদু-দিদা অনেকদিন গত হয়েছেন। মাসিও গিয়েছেন বছর দুয়েক। প্রশ্নটা কাকে করা যায়! নবনীতার দিকে তাকিয়ে প্রবীর জানতে চাইল, ‘মেসো কি নিয়মভঙ্গে আসবেন?’
শ্রাদ্ধের কাজে সময় লাগে। কাজ মিটতে মিটতে সন্ধে হল। বাড়ি ফাঁকা হল বেশ রাতে। নবনীতা আর মাম্পি শুয়ে পড়েছে। এই ক’দিন প্রবীর রয়েছে মায়ের ঘরে। ছবির সামনে আজ প্রদীপ জ্বলছে। সাদা ফুল আর মালায় ভরে আছে জায়গাটা। একটা মানুষ হঠাৎ কীভাবে ছবি হয়ে যায়! ভাবলে অবাক লাগে। মা তার সব ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর চা কোম্পানি মাকে কলকাতায় চাকরি দেবে বলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কথা রাখেনি। সেলাই আর টিউশন করে বহু কষ্টে প্রবীরকে তিনি মানুষ করেছেন। সেই সব দিনের কথা ভাবলে এখনও তার কান্না পায়। প্রবীর বিছানায় শুয়ে পড়ল। আজ কিছুতেই ঘুম আসছে না। বারবার মায়ের কথা মনে পড়ছে।
চোখ খুলে প্রবীর দেখল, নবনীতা তার পাশে বসে রয়েছে। ‘চল, ওই ঘরে গিয়ে শোবে। সেই কখন থেকে গোঙাচ্ছ। স্বপ্ন দেখছিলে নিশ্চয়ই!’ এভাবেই স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুম ভেঙে যায় প্রবীরের। তাই স্বপ্নের শেষটা তার দেখা হয় না। আজ তার স্বপ্নে মা এসেছিল। সে দেখল গান গাইতে গাইতে বিরাট মাঠের মধ্যে দিয়ে একটি ছেলের হাত ধরে মা হাঁটছে। প্রবীর দৌড়ে তার মায়ের কাছাকাছি যেতেই ছেলেটা ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দিল মাঠের মধ্যে। তখনই চিৎকার করে ওঠে প্রবীর। কিন্তু কী আশ্চর্য, মা এবার কিন্তু তাকে বাঁচাতে আসেনি। এতক্ষণ ছেলেটার মুখের দিকে তাকায়নি প্রবীর। এবার সে লক্ষ করল ছেলেটার দিকে। আর সঙ্গে সঙ্গে তার বুকের রক্ত যেন হিম হয়ে আসে। নবনীতার হাতটা চেপে ধরে প্রবীর বলে, ‘মা ওই ছেলেটার সঙ্গে চলে গেল।’
পারলৌকিক কাজ মিটতেই অফিসের কাজে মুম্বই এসেছে প্রবীর। নিয়মভঙ্গের দিন মেসো কিছু বলতে পারেনি। মেসো বললেন, ‘তোর বাবার নাম যেহেতু মনোরঞ্জন, তাই তাকে সবাই মনা বলে ডাকত। আর এদিকে তোর দাদুর দুই মেয়ে। ওদের পিসতুতো, জেঠতুতো ভাইদের মধ্যে খোকা নামে কেউ ছিল বলে মনে তো পড়ছে না। আমার মনে হচ্ছে শুনতে তুই ভুল করেছিস।’ যাইহোক, কাজ শেষে হোটেলে ফিরে নবনীতাকে ফোন করল প্রবীর। কয়েকটা সাংসারিক কথার পর নবনীতা বলল, ‘লাল কাপড়ে যেটা বাঁধা ছিল, সেটা একটা ডায়রি। তবে লেখা কিছুই নেই। ভেতরে একটা ছবি পেলাম। আচ্ছা, তোমার কি কোনও দাদা ছিলেন?’ প্রবীর অবাক হয়ে বলল, ‘কই, মা তো কিছু বলেনি কখনও!’ নবনীতা বলল, ‘ছবিটা তোমাকে পাঠাচ্ছি, দেখ।’ মোবাইলে টুং করে শব্দ হতেই ছবিটা খুলল প্রবীর। সাদা কালো ছবিটা স্পষ্ট নয়। একটা ছোট্ট ছেলেকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাবা মনোরঞ্জন বাগচী। ছেলেটার মুখের দিকে তাকাতেই নিজের হৃৎপিণ্ডের শব্দটা খুব জোরে জোরে শুনতে পেল প্রবীর। এই ছেলেটাকেই সে এতদিন স্বপ্নে দেখেছে!
ফোনের অন্য দিকে কী যেন বলছে নবনীতা। প্রবীরের মাথায় কিছুই ঢুকছে না। সে একমনে তাকিয়ে আছে ছবিটার দিকে। বাড়ির পিছনে একটা খাদ ছিল। তার নীচে পাহাড়ি নদী। ছোটবেলা সে ওদিকে গেলেই মা তাড়াতাড়ি তাকে ঘরে এনে দরজা বন্ধ করে দিত। খোকা কি সত্যি সত্যিই ঝাঁপ দিয়েছিল! মা বারবার তাকে জল দিতে চাইত কেন! স্বপ্নগুলো সেলুলয়েডের মতো তার মাথায় ঘুরছে। ‘হ্যালো, হ্যালো... তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?’ নবনীতার ডাকে বাস্তবে ফিরে এল প্রবীর। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘আমরা অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাইনি নীতা। পাহাড়ে যাবে? ছোটবেলার সেই চা-বাগানটা আমাকে খুব টানছে।’