নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে চলতি বছরে ৪৮ লক্ষ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে খরিফ ফসলের চাষ হয়েছে। যা গত খরিফ মরশুমের তুলনায় সামান্য কম (০.২৭ শতাংশ)। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক বিভিন্ন রাজ্যে খরিফ ফসলের চাষের জমির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। পশ্চিমবঙ্গে খরিফ মরশুমে মূলত ধানের চাষ হয়। কিছুটা পাট ও অল্প পরিমাণে ভুট্টা, ডালসহ অন্যান্য ফসলের চাষ হয়। এরাজ্যে খরিফ মরশুমে ধান চাষের স্বাভাবিক জমির পরিমাণ প্রায় ৪২ লক্ষ হেক্টর। সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, এবার রাজ্যে রাজ্যে ধান চাষ স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশি হয়েছে।
গোটা দেশের নিরিখে অবশ্য এবার খরিফ ফসলের মধ্যে ধান চাষ গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষিমন্ত্রক। গত ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে ৪ কোটি ৪৭ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছিল। এবার হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লক্ষ জমিতে। তবে স্বাভাবিক ধান চাষের জমির তুলনায় বেশি জমিতে এবার চাষ হয়েছে। খরিফ মরশুমের ধান চাষ মূলত বৃষ্টির জলের উপর নির্ভরশীল। গত বছর গোটা দেশে খুব ভালো বর্ষা হয়েছিল। কিন্তু এবার অনেক রাজ্যে কম বৃষ্টি হওয়ায় ধান চাষ মার খেয়েছে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্য আছে। এবার বৃষ্টি কম হলেও অন্যান্য খরিফ ফসল, যেমন ডাল, তৈলবীজ, মোটা দানাশস্য, পাট প্রভৃতির চাষ গত বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা কৃষি বিশেষজ্ঞদের। ফসল ওঠার সময় এর পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে গত বছরের তুলনায় এবার দেশে সার্বিকভাবে খরিফ ফসলের চাষের জমি ০.৯১ শতাংশ কমেছে। বৃষ্টির ঘাটতি থাকা রাজ্যগুলিতে চাষের জমি কমেছে অনেকটাই। যেমন, কর্ণাটকে কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ, তামিলনাড়ুতে ২২ শতাংশ, মহারাষ্ট্রে ৫ শতাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশে ৭ শতাংশ, তেলেঙ্গানায় ৫ শতাংশ করে কমেছে।
খরিফের পর এবার আসছে রবি মরশুম। এল নিনোর প্রভাবে ভারতেও তাপমাত্রা আগামী দিনে বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থা। নভেম্বর মাসে যখন রবিশস্য চাষ শুরু হবে, তখন এল নিনোর তীব্রতা চরমে উঠে অতীত রেকর্ড ভাঙতে পারে বলেও আশঙ্কা। রবি ফসসের মধ্যে বিশেষ করে গম, তৈলবীজের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা একটা বড়ো ফ্যাক্টর বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। কম তাপমাত্রায় ভালো ফলন হয়। আলু ও শীতের সবজির ভালো ফলনে কম তাপমাত্রার ভূমিকা আছে। গত বছর পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছিল।