Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খানাকুল-২ বিডিওর নাম বিচারাধীন লিস্টে, বিএলও সহ একই গ্রামে ১১০ জন তালিকায়

ব্লকে বিডিও-ই নির্বাচন কমিশনের মুখ। অথচ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় খোদ বিডিও তথা এইআরও ‘বিচারাধীন’।

খানাকুল-২ বিডিওর নাম বিচারাধীন লিস্টে, বিএলও সহ একই গ্রামে ১১০ জন তালিকায়
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ব্লকে বিডিও-ই নির্বাচন কমিশনের মুখ। অথচ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় খোদ বিডিও তথা এইআরও ‘বিচারাধীন’। খানাকুল-২ বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন রয়েছেন। এছাড়া ১৫ বছর ধরে বিএলও-র কাজ করেও এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন আরামবাগের শিক্ষক মনিরুদ্দিন মল্লিক। গ্রামে আরও ১১০ জন ভোটার বিচারাধীন। তারফলে আরামবাগের ১৫৮ নম্বর বুথের মালিপুকুরে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন তো! তা নিয়েও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এনিয়ে সরব রাজনৈতিকদলগুলিও।

Advertisement

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেন, বিজেপির মদতে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের হয়রানির মুখে ফেলছে। এরা প্রত্যেকেই বৈধ ভোটার। অথচ তাদের ‘বিচারাধীন’ করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট নিয়মে কাজ করছে। কোনো পক্ষপাতমূলক কাজ করেনি। তৃণমূলের অভিযোগ মিথ্যা। 
জানা গিয়েছে, বিডিও জাকারিয়া সাহেব উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। বর্তমানে তিনি কর্মসূত্রে খানাকুল-২ ব্লকের বিডিও রয়েছেন। এসআইআর পর্বে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য বিডিও সহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়। জাকারিয়া সাহেব নিজেও শুনানিতে হাজির হন। কিন্তু, তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকলেও বিডিও বিচারাধীন রয়েছেন। খানাকুল-২ বিডিও বলেন, এসআইআর পর্বে শুনানিতে হাজিরা দিয়েছিলাম। কিন্তু, তারপরেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। 
আরামবাগের মালিপুকুরের বিএলও মনিরুদ্দিন সাহেব স্থানীয় হাট বসন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি ২০১১ সাল থেকে বিএলও-র দায়িত্ব পালন করছেন। এসআইআর পর্বে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য তাঁর শুনানির নোটিস আসে। তিনি জানিয়েছেন, নামের বানানগত অসংগতির জন্য নোটিস আসে। সেইজন্য মাধ্যমিকের অ্যাডমিট, পাসপোর্ট সব কিছুই জমা করা হয়। তারপরেও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম বিচারাধীন থাকায় তিনি চিন্তায় পড়েছেন। 
তিনি আরও জানান, গ্রামে ৬০০ জন ভোটার রয়েছেন। তারমধ্যে ২৪২ জনের নাম লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য শুনানিতে আসে। ১১০ জন ভোটার চূড়ান্ত তালিকায় বিচারাধীন রয়েছেন। তবে ১০ জন নতুন ভোটারের নাম উঠেছে তালিকায়। 
বিএলও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বুথ লেবেল অফিসারের কাজ করছি। কিন্তু, এভাবে বিচারাধীন আসবে ভাবতে পারিনি। পরিবারের আরও ছ’জন ভোটারকে বিচারাধীন বলা হয়েছে। তাতে ১০২ বছর বয়সি আমার মা সেই তালিকায় আছে। গ্রামের অন্য বিচারাধীন ভোটাররা আতঙ্কে রয়েছেন। তাঁদের চিন্তা না করার জন্য বোঝাচ্ছি।
ওই এলাকার দুই ভোটার শেখ সাহবর আলি ভোটার তালিকায় বিচারাধীন আছেন। একইভাবে বৃদ্ধ শেখ মহম্মদ সাইফুদ্দিনের স্ত্রীও বিচারাধীন। তাঁরা বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমাদের নাম ছিল। তারপরেও শুনানির নোটিস আসে। পাসপোর্ট সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও ভোটার তালিকায় নিষ্পত্তি হয়নি। এবার ভোট দিতে পারব কি না, জানি না। কমিশন এব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি। আরামবাগের বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, অনেকেরই নাম বিচারাধীন রয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ