সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: অনুশীলন সবে শেষ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যেই টিম বাসে উঠছেন মনবীর-আনোয়াররা। ভারতীয় ফুটবলারদের উৎসাহ জোগাতে এদিনও রাজারহাটের সেন্টার অব এক্সেলেন্সে হাজির ছিলেন বেশ কয়েকজন অনুরাগী। তবে নিরাপত্তার বলয় ভেঙে ফুটবলারদের কাছে ঘেঁষতে পারেননি কেউই। তাই জাতীয় পতাকা হাতে দূরেই দাঁড়িয়ে রইলেন তাঁরা। তবে মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে তা দেখেই দাঁড়িয়ে পড়লেন গুরপ্রীত সিং সান্ধু। করজোড়ে করলেন নমস্কার। তারপর নিরাপত্তারক্ষীদের পেরিয়ে নিজেই এগিয়ে এলেন অটোগ্রাফ দিতে। প্রিয় ফুটবলারকে কাছে পেয়ে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভালো খেলার আবদার জানালেন সমর্থকরা। গুরপ্রীতও বললেন, ‘আমাদের চেষ্টায় খামতি থাকবে না।’ সঙ্গে সঙ্গেই ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’ স্লোগানে ছেয়ে গেল এনসিই চত্বর। কোচ খালিদ জামিল অবশ্য যাবতীয় আবেগ দূরে সরিয়ে ভিনিসিয়াস, এনড্রিকদের রোখার যাবতীয় পরিকল্পনা সেরে নিলেন।
শনিবার যুবভারতীতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ব্লু টাইগার্স। ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে অনুশীলনে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ভারতীয় কোচ। রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে আরও একবার রক্ষণ সংগঠনে জোর দেন তিনি। বিশেষত ব্রাজিলের আপফ্রন্টের মূল ভরসা ভিনিসিয়াসকে কীভাবে শান্ত রাখা যায়, সেটাই ভাবছেন মুম্বইকর। গত দু’দিন রক্ষণ আর মাঝমাঠের মধ্যে বোঝাপড়ার উপর বাড়তি জোর দিয়েছিলেন খালিদ। এদিনও মাঠের একপ্রান্তে দুটো গ্রুপে চলল মহড়া। সেখানে রাইট উইং-ব্যাকে অভিষেক টেকচামকে সাহায্য করতে বারবার নেমে আসলেন মনবীর, বিক্রম প্রতাপরা। মূলত উইং-হাফ হলেও ক্লাব ফুটবলে একাধিকবার উইং-ব্যাকে খেলেছেন মনবীর। ভিনিসিয়াসকে রুখতে তাই তাঁর উচ্চতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন খালিদ। একইসঙ্গে দুই ডিফেন্সিভ ব্লকার পজিশনে আপুইয়া ও রিকি সাবোংকেও বাড়তি লোড নিতে দেখা গেল।
কলকাতায় পা রাখার আগে অস্ট্রেলিয়ায় দু’টি টিম ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের ভিডিয়ো দেখেই আনসেলোত্তি ব্রিগেডের হোমওয়ার্ক সেরেছেন ভারতীয় কোচ। একইসঙ্গে শুক্রবার অনুশীলনে কতটা নিজেদের স্ট্র্যাটেজি খোলসা করে সেলেকাওরা, সেদিকে কড়া নজর থাকবে খালিদের। তবে নিজেদের প্রচেষ্টায় বিন্দুমাত্র খামতি রাখতে নারাজ তিনি। কলকাতায় পা রেখে গত দু’দিন মূলত রাজ্য সরকারের বিশেষ বাসেই অনুশীলনে যাতাযাত করছিলেন ভারতীয় ফুটবলাররা। তবে বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের জন্য বরাদ্দ বিশেষ বাসে মাঠে আসেন মনবীররা। ফেডারেশনে লোগোর পাশাপাশি ভারতীয় দলের ‘নিকনেম’ও লেখা রয়েছে তাতে। একইভাবে ব্রাজিল দলের জন্যও প্রস্তুত করা হয়েছে বিশেষ বাস। সবুজ-হলুদ রংয়ে মোড়া সেই বাসে রয়েছে পাঁচটি তারা, যা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে পাওয়া।