Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন না কেষ্ট, মাঝরাতে ছাড়া পেল ৩ হামলাকারী! কাজলের 'নাটক' তত্ত্বেই কি জোরালো সিলমোহর?

গতকাল বুধবার বিকেলে সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলের ওপর হামলার ঘটনায় আটক করা হয়েছিল তিন যুবককে

থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন না কেষ্ট, মাঝরাতে ছাড়া পেল ৩ হামলাকারী! কাজলের 'নাটক' তত্ত্বেই কি জোরালো সিলমোহর?
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৫২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: গতকাল বুধবার বিকেলে সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলের ওপর হামলার ঘটনায় আটক করা হয়েছিল তিন যুবককে। আর ঠিক মাঝরাতেই অভিযুক্তদের ছেড়ে দিল পুলিশ। অভিযুক্ত আকাশ দেবনাথ, বান্টি বীরবংশী এবং রিশয় গোরকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের স্পষ্ট যুক্তি, বুধবার অনেক রাত পর্যন্ত খোদ অনুব্রত বা তাঁর অনুগামীদের তরফে থানায় কোনোরকম  লিখিত অভিযোগই দায়ের করা হয়নি। আর এই অভাবনীয় ঘটনাকে ঘিরেই বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। যাঁর দাপটে একসময় গোটা জেলা বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, তাঁর ওপর প্রকাশ্যে লাঠি নিয়ে হামলা হওয়ার পরেও এই রহস্যময় নীরবতার কারণ কী?

Advertisement

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই তিন যুবকের বাড়ি সিউড়ির হাটজনবাজার এলাকায়। তবে মাঝরাতে থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার আর তাঁদের মধ্যে কেউই বাড়ি ফেরেনি। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার রাজনৈতিক দাদাদের বদান্যতায় বেড়ে ওঠা এই যুবকদের কোনো স্থায়ী কাজ নেই। গোটা এলাকায় দাদাগিরির সুনাম তাদের জন্য যথেষ্টই। বিজেপির স্থানীয় যুব নেতা সুজয় কৃষ্ণ বসু জানিয়েছেন, ওই যুবকরা সরাসরি দলের কর্মী না হলেও তারা বিজেপি সমর্থক। সুজয়ের কথায় 'দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এই হামলা করা হয় বলে আশঙ্কা করা গিয়েছে। পুলিশের সমর্থন নিয়ে অনুব্রত এতদিন স্রেফ কাগুজে বাঘ ছিল। আগের দিনের ঘটনাতেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে এত কিছুর পরেও কেষ্ট কেন নীরব, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন। তাহলে কি তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের দাবিই সত্যি? কাজলের দাবি ছিল, সরকারি নিরাপত্তা ফিরে পেতেই কেষ্ট এই হামলার সাজানো নাটক করেছেন। সত্যিই হামলার উদ্দেশ্য থাকলে হামলাকারীরা তাঁকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে যেত না। এই তত্ত্বকে সবচেয়ে বেশি জোরালো করেছে বুধবারের এই বিশেষ ঘটনা। জানা গিয়েছে, হামলার সময় তৃণমূল কার্যালয়ে বা পরে থানায় কেষ্টর অনুগামীরা উপস্থিত থাকলেও, কেউই কিন্তু হামলাকারীদের আটকাতে বা প্রতিরোধ করতে একটুও এগিয়ে আসেননি! যদি সত্যিই এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হত, তবে অনুব্রত কেন পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবি করলেন না? কেনই বা তাঁর অনুগামীরা গোটা ঘটনায় আদ্যোপান্ত নিষ্ক্রিয় হয়ে রইলেন? পুলিশ হেফাজতে অভিযুক্তরা বেশিদিন আটকে থাকলে জেরার মুখে পড়লে 'নাটক'-এর আসল চিত্রনাট্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল? অনুব্রতর নীরবতায় হামলাকারীদের বিনা বাধায় পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনা বীরভূমের রাজনীতিতে এখন সেই প্রশ্নগুলোকেই সবচেয়ে বেশি জোরালো করে তুলল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ