বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: কেদারনাথ মন্দির যাঁদের দেখা হয়নি, তাঁদের জন্য সুখবর। এবার পুজোয় ফলতা কামারডাঙা বান্ধব সমিতি কেদারনাথ মন্দির তৈরি করেছে। চারপাশে সাদা বরফের মাঝে এই শিবক্ষেত্র। কামারডাঙা বান্ধব সমিতির এবার রজত জয়ন্তী বর্ষ (২৫)। মন্দিরের গা বেয়ে ঝরনার ধারা বইছে। দুর্গা তথা আদ্যাশক্তিকে দেখানো হয়েছে মন্দিরের ভিতর। সম্পাদক নীলরতন পাল ও তন্ময় সরকার বলেন, আমাদের মণ্ডপে এলে কেদারনাথ যেমন দেখা হয়ে যাবে, পাশাপাশি সেখানকার পাহাড়, ঝরনা আর জলপ্রপাতের অপরূপ দৃশ্য নজর কাড়বে। আলো ও শব্দকে মিলিয়ে জলপ্রপাত ও ঝরনার আহব তৈরি করা হয়েছে।
রাজারহাট থেকে ফলতার দিঘিরপাড় যাওয়ার মাঝখানে এক অজ গাঁ গড়খালি। সেখানে বিশাল মাঠের মধ্যে আগেকার সময়ে রাজাদের বাড়ির ভিতর যেভাবে প্রশস্ত জায়গায় মন্দির, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা থাকত, সেভাবেই সেই সময়ের দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে রাজকীয় আবাহন।
গড়খালি সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এই পুজোর বয়স ১৫ বছর। সম্পাদক তাপস মাঝি বলেন, বারোয়ারি পুজো হলেও একদম গ্রামের ভিতর হওয়াতে এখানে পরিবেশ একেবারে পারিবারিক। এবার বিশাল বড় মাঠের মাঝখানে মণ্ডপ করা হয়েছে। তার মাঝে পাঁচটি আলাদা মন্দির। তাতে দুর্গা, লক্ষ্ণী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক রাখা হয়েছে। যদিও আলাদা করে একচালার শোলার দুর্গা প্রতিমা আছে। আট ফুটের একটি ফাইবারের হাতি রাখা হয়েছে। একসঙ্গে মণ্ডপের চৌহদ্দির ভিতর বসে আড়াইশো মানুষ যাতে পুজো দেখতে ও আড্ডা দিতে পারে, তারও সুন্দর বসার আয়োজন হয়েছে। অতিথি এলেই তাকে চা ও জল দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে।
ফলতারই ফতেপুর নবোদয় সংঘের পুজো এবার সাত বছরে পা দিল। সম্পাদক সুপ্রিয় মোদক বলেন, সুন্দরবনের মৌলিদের জীবনযাত্রা, সেখানকার ঘর বাড়ি, উঠোন, চাটাই পেতে খাওয়া-দাওয়া, বারান্দায় বসে জাল বোনা, মধু আনতে যাওয়ার আগে দক্ষিণরায়ের পুজো, বাঘের হামলা– এই সব দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘ আটমাস ধরে এলাকার ১০০ বাসিন্দা মিলে এটা করেছেন। নাম দেওয়া হয়েছে ‘১৮ ভাটির দেশ’। দৃশ্যপটের সঙ্গে মিলিয়ে মাতৃমূর্তি করা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র



