নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিয়ে দেশ যখন উত্তাল, তখন সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন। একটি মামলায় কর্ণাটকের শ্রীঙ্গেরি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনার ভিডিয়ো রেকর্ডিং তলব করেছিল শীর্ষ আদালত। কিন্তু কমিশন জানায়, তারা ওই ভিডিয়ো ফুটেজ খুঁজে পাচ্ছে না। তাতেই চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চ কমিশনের উত্তরে বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, ‘নির্বাচন কমিশন কীভাবে বলতে পারে যে তারা ফুটেজ হারিয়ে ফেলেছে? আপনাদের একমাত্র কাজই হল নির্বাচন আয়োজন করা এবং তার জন্য রেকর্ড থাকা প্রয়োজন। খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে, এমন কথা বলার প্রশ্নই ওঠে না। নথিপত্র সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। আপনারা তো ওই ফুটেজ নির্বাচিত প্রার্থীকে দিয়েছিলেন। আপনাদের কাছে যাই থাকুক, তা পরের শুনানির দিন পেশ করুন। নাহলে আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব। আমরা কোনো ফাঁপা অজুহাত আর শুনব না।’
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। শ্রীঙ্গেরি বিধানসভা আসনে কংগ্রেস প্রার্থী টি ডি রাজেগৌড়া ২০১ ভোটে বিজেপি প্রার্থী ডি এন জীবারাজকে হারিয়ে দেন। কিন্তু সেই ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন বিজেপি প্রার্থী। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কর্ণাটকের হাইকোর্টের নির্দেশে ফের পোস্টাল ব্যালট গোনার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাতে রাজেগৌড়ার ২৫৫টি ভোট কমে যায়। শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী জীবারাজকেই জয়ী বলে ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস প্রার্থী। তিনি আবেদনে জানান, হাইকোর্ট শুধুমাত্র বাতিল হওয়া ২৭৯টি পোস্টাল ব্যালটই ফের গোনার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার রাজেগৌড়ার পক্ষে যাওয়া ৫৬২টি পোস্টাল ব্যালটকেও ফের গুনেছেন। যা বেআইনি। শীর্ষ আদালত জানায়, কংগ্রেস প্রার্থী অবজারভারের রিপোর্ট এবং প্রথম ও পুনর্গণনার ভিডিয়ো রেকর্ডিং দেখতে চেয়েছেন। তার ভিত্তিতেই কমিশনকে নথি ও রেকর্ডিং জমা দিতে বলা হয়েছিল। শীর্ষ আদালত আগেই জানিয়েছে, বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজেগৌড়াই বিধায়ক পদে থাকবেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফের এই মামলার শুনানি হবে।



