Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কার্গিল যোদ্ধাও বিচারধীন তালিকায়! অনিশ্চিত এক হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ

আর মাত্র দশ দিন পরেই বিধানসভা নির্বাচন। এরমধ্যেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল ভোটার তালিকা

কার্গিল যোদ্ধাও বিচারধীন তালিকায়! অনিশ্চিত এক হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: আর মাত্র দশ দিন পরেই বিধানসভা নির্বাচন। এরমধ্যেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল ভোটার তালিকা।  পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেও এখনও প্রায় এক হাজার ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হল, সেই তালিকায় রয়েছেন কার্গিল বিজয়ের এক যোদ্ধা! 

Advertisement

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা।কিন্তু কেন এখনও সমস্যার সমাধান হল না? ওই কার্গিল যোদ্ধা সহ  বিচারাধীন ভোটাররা কি আদৌ ভোট দিতে পারবেন? এইসব প্রশ্ন ক্রমেই  জোরাল হচ্ছে। জেলাশাসক তথা নির্বাচনি আধিকারিক বিজিনকৃষ্ণা অবশ্য আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী। প্রশাসনের এই আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। তবে, অনিশ্চয়তা কাটছে না পুরোপুরি।
মেদিনীপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ মহিউদ্দিন খান। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী। অংশ নিয়েছিলেন কার্গিল যুদ্ধের ‘অপারেশন বিজয়’-এ। অবসরের পর স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এমন একজন দেশসেবক সেনাকর্মীই আজ হারিয়ে ফেলেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার! স্বাভাবিকভাবেই এসআইআরের গোটা প্রক্রিয়া এখন প্রশ্নের মুখে। মহিউদ্দিন ১৮৯ নম্বর অংশের ভোটার। তাঁর ক্রমিক সংখ্যা ১৩৮। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ৬ এপ্রিল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ, তিনি বিচারাধীন। এখন কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। অথচ, তাঁকেই আবার সেকেন্ড পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন!
মহিউদ্দিন বলছিলেন, ‘সব নথি জমা দিয়েছি, তবুও বিচারাধীন। এর মধ্যে আবার ভোটকর্মী ( সেকেন্ড পোলিং অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রেনিংয়ে আমাকে ডাকা হচ্ছে। কীভাবে কী করব, কিছুই পরিষ্কার নয়। খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি। ট্রাইবুনালে যেতে পারব কিনা জানা নেই।’ 
কমিশনের তথ্য বলছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এসআইআরের আগে মোট ভোটার ছিল ৪০ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৯৭ জন। প্রথম দফায় চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠে ৩৮ লক্ষ ৭ হাজার ১১ জনের। বিবেচনাধীন ছিল ১ লক্ষ ৩ হাজার ৪৯৬ জন ভোটার। এরমধ্যে প্রায় ৫২ হাজার মানুষের নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়েছে। এখনও প্রায় এক হাজার ভোটারের নাম ঝুলে বিচারাধীন তালিকায়। চূড়ান্ত হিসেব অনুযায়ী জেলায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার ৭৯৪ জন।
মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা অভিযোগ করেছেন, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কমিশন বুলডোজার চালাচ্ছে। এতে বহু সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। এমনকী, যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, তাঁদেরও লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিচয় প্রমাণ করতে হচ্ছে। এটা লজ্জাজনক।অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত পাল্টা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। কারও সমস্যা হলে কমিশন পাশে দাঁড়াবে। তবে এবার আর আগের মতো নির্বাচন হবে না। আমরা জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ