


শ্রীকান্ত পড়্যা, কাঁথি: ২০২১সালে কাঁথি উত্তর কেন্দ্রে অনেক প্রতিশ্রুতি বিলিয়েছিলেন। তাতে ভরসা রেখে মানুষ দু’হাত তুলে ভোটও দিয়েছিলেন। কিন্তু, পাঁচ বছরে সেই প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগটাই পূরণ করতে পারেননি কাঁথি উত্তরের বিধায়ক সুমিতা সিনহা। বহু ভোটার বলছেন, ২০২১সালে ভোটের সময়ই তাঁকে প্রথম ও শেষবার দেখা গিয়েছে। তারপর ফের প্রার্থী হওয়ায় তাঁর নাম আলোচনায় উঠে আসছে। কাঁথি উত্তরের এই বিধায়ক গত পাঁচ বছরে পারফরম্যান্সের নিরিখে সবার নীচে। অর্থাৎ জেলায় ১৬জন বিধায়কের মধ্যে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের অর্থ খরচে তিনি ১৬নম্বরে। ফের ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ায় এবার তাঁর পারফরম্যান্স ও এলাকায় সেভাবে দেখতে না পাওয়ার বিষয়টি মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাঁচ বছরের মেয়াদকালে প্রত্যেক বিধায়কের এলাকা উন্নয়নের জন্য ৩কোটি ৩০লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ হয়েছে। প্রথম দু’বছর ৬০লক্ষ টাকা করে ১কোটি ২০লক্ষ টাকা এবং শেষ তিন বছর ৭০লক্ষ টাকা করে ২কোটি ১০লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু, স্কিম জমা দিতে দেরি, তদারকির অভাব সহ নানা কারণে পারফরম্যান্স নির্ভর করে। কাঁথি উত্তর কেন্দ্রের বিধায়কের ওই গ্র্যান্টের ২কোটি ৮১লক্ষ টাকার কাজ চলছে। সব কাজ এখনও শেষ হয়নি। এখনও অবধি ৪৯লক্ষ টাকা তহবিলে পড়ে আছে। বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলল। অথচ, বিধায়কের উন্নয়ন তহবিলের হাফ কোটি টাকা এখনও জেলা প্রশাসনের কাছে জমা রয়েছে। সেই টাকা ছাড়া যায়নি। পারফরম্যান্সের নিরিখে তিনিই ১৬তম স্থানে আছেন।
দেশপ্রাণ ব্লকের মুকুন্দপুর বাজারে বাড়ির সামনে চায়ের দোকান গৌতম বেরার। গৌতমবাবু বলেন, ২০২১সাল থেকে বিধায়ক আছেন সুমিতা সিনহা। এই এলাকার জন্য কোনও কাজ করেননি। তাঁকে এলাকায় দেখতেও পাইনি। একই বক্তব্য ধোবাবেড়িয়া পঞ্চায়েতের অধীন জগন্নাথচক গ্রামের বিকাশ দাসের। মুকুন্দপুর বাজারে তাঁর টেলারিংয়ের দোকান আছে। বিকাশবাবু বলেন, প্রার্থী ঘোষণার আগেরদিন জগন্নাথচক গ্রামে এসেছিলেন সুমিতাদেবী। গ্রামের রাস্তা বেহাল আছে বলে তাঁর কাছে দরবার করার পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিলাম। শেষমেশ সেটা জানাতে পারিনি।
গত ২২ফেব্রুয়ারি সুমিতাদেবী কাঁথি উত্তর বিধানসভার অধীন ভাজাচাউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিণা পাশদলবাড় বুথে গৃহসম্পর্ক অভিযানে বেরিয়েছিলেন। এসআইআরে হয়রানির শিকার মহিলারা ঝাঁটা হাতে তাঁদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এসআইআর নিয়ে অসন্তোষের সঙ্গে কাঁথি উত্তরে বিধায়কের পাঁচ বছরের পারফরম্যান্সও এবার ভোটে ইস্যু হয়ে উঠেছে।
কাঁথি উত্তর বিধানসভার অধীন দেশপ্রাণ ব্লকের আটটি পঞ্চায়েত, কাঁথি-৩ ব্লকের ছ’টি এবং এগরা-২ব্লকের বাথুয়াড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত পড়ে। বিস্তীর্ণ এই গ্রামীণ এলাকার অনেক রাস্তায় স্ট্রিটলাইটের দাবি আছে। তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাঁথি-জুনপুট রোডেও আলোর দাবি আছে। কাঁথি দক্ষিণ ও উত্তর বিধানসভার মধ্যে পড়ে ওই রাস্তা। কিন্তু, আলো নেই। আমাদের পাড়া, পথশ্রীর মাধ্যমে অধিকাংশ ঢালাই রাস্তার কাজ চলছে। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা ঠিকমতো খরচ হলে আলো, নিকাশি সহ নানা কাজে গতি আসত। স্থানীয় মানুষের সুবিধা হত। কিন্তু, ঠিকমতো তদারকি করা হয়নি।
কাঁথি উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুমিতা সিনহা বলেন, আমি ১৮০টি স্কিমের লিস্ট জমা করেছি। যার প্রকল্পমূল্য ৩কোটি ৩৩লক্ষ টাকা। আমার পক্ষ থেকে কোনওরকম খামতি নেই। প্রচারে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে বুঝতে পারছি, এবারও আমাদের জয় নিশ্চিত।
তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস ভুঁইয়া বলেন, কাঁথি উত্তরের বিধায়ক অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হলেও কথা রাখতে পারেননি। পাঁচ বছরের মধ্যে অনেকেই বলছেন, তাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন। এবার আর ভুল করবেন না। তাই এবার এই কেন্দ্রে বিজেপির পরাজয় কেউ আটকাতে পারবে না।