কৃষ্ণনগরের ‘তিন ইঞ্চি’ দুর্গাবাড়িতে সপ্তমীতে উমার সঙ্গে হয় কালীপুজো
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের তিন ইঞ্চি দুর্গাবাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে ২৫২ বছরের ইতিহাস। দীর্ঘ সময়ের ঐতিহ্যকে নিয়ে আজও চলেছে এই পুজো। তবে তিন ইঞ্চির দুর্গাবাড়ির বিগ্রহ কিন্তু আদপেই তিন ইঞ্চির নয়। আসলে বনেদি বাড়ির চারদিকের দেওয়াল তিন ইঞ্চি হওয়ায় এই নামেই পরিচিত এই পুজো। এখানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য, সপ্তমীতে একই সঙ্গে দেবী দুর্গা ও মা কালীরও আরাধনা হয় এই বাড়িতে।

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর সময় এক মণ্ডপে দুর্গা ও কালী-দুই দেবীর পুজো হওয়ায় এলাকার মানুষ ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আলাদা উৎসাহ থাকে। পুজোর দিনগুলিতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন দেবী দুর্গার সঙ্গে মা কালীর দর্শনের জন্য। পুজোর সময় বাড়ির প্রতিটি কোণ আলো, আলপনা ও ফুলে সাজানো হয়।
এই বাড়ির পুজোয় সপ্তমীর দিন মা কালীর আরাধনা হয়। পুরাণ মতে, অসুর নিধনের সময় মা, মহামায়া রূপে ছিলেন। যা মা কালীরই এক রূপ। তাই সপ্তমীর রাতে অষ্টমী তিথি পড়ে গেলে মা কালীর পুজো হয়। মায়ের সামনে আখ ও কুমড়ো বলি হয়। আগে ছাগ বলির প্রথা ছিল। এখন তা হয় না। তিন ইঞ্চি বাড়ির পরিবারের সদস্যদের তরফে জানা গিয়েছে, এই পুজোর শুরু প্রায় ১৭৭৪ সালে। দাস বংশের পঞ্চম পুরুষ গঙ্গারাম দাসের হাত ধরে বাংলাদেশের গোয়ালন্দ-ফরিদপুরে পুজোর সূচনা। গঙ্গারাম দাস পুজোর দিনগুলিতে জমিদার বাড়িতে গান করতে যেতেন। ফলে পুজোর সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারতেন না। এতে তাঁর খুব মন খারাপ হত। একদিন নৌকায় মনমরা হয়ে জমিদার বাড়ি চলেছেন গঙ্গারাম। মুখে গানের  কলি লেগে আছে। সেই সময় তিনি লাল শাড়ি পরা দেবী দুর্গার দর্শন পান! মা দুর্গা তাঁকে ফিরে গিয়ে বাড়ির কাছের ঘাটে যে কাঠামো আছে, সেই কাঠামোতেই পুজোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় মা তাঁকে কেবল চাল ও কলা দিয়ে ভোগ নিবেদনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রীতি মেনে আজও এই বাড়িতে মায়ের প্রধান ভোগ চাল, কলা। বাড়ির অন্যতম সদস্য সুদীপ দাসের কথায়, দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে আমরা ভারতে চলে আসি। পয়লা বৈশাখেই মায়ের আরাধনা শুরু হয়ে যায় বাড়িতে। ওদিন মা কে নতুন বস্ত্র ও আম, দুধ দেওয়া হয়। উল্টোরথের দিন হয় কাঠামো পুজো। সেই দিনই বংশ পরম্পরায় যাঁরা প্রতিমা শিল্পী থাকেন, তাঁরা বিচুলি দিয়ে গণেশ ঠাকুর প্রস্তুত করেন। পরে বাকি কাঠামো সম্পূর্ণ হয়। মায়ের সাজসজ্জা, গয়না, চালির সাজ সবই এখানে মাটির। মহালয়ার দিন মায়ের চক্ষুদান হয়। এক চালির প্রতিমায় কার্তিক ও গণেশের স্থান পরিবর্তন রয়েছে। কিন্তু নবপত্রিকার জায়গার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে কলা বউ থাকে এখানে কার্তিক ঠাকুরের পাশে।
সুদীপবাবু আরও বলেন, নবমীতে শত্রু বলি হয়। আমরা বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে পুজো করি। এছাড়াও পুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকে।