


সাগর রজক , মানিকচক:
দীপাবলি মানে আলোর উৎসব। কিন্তু ওদের জীবন এখন আঁধারে। গত কয়েক মাস যে বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, উত্সবের আনন্দ আর ছুঁতে পারছে না অসহায় মানুষদের। তাই কালীপুজো ও দীপাবলির আনন্দের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না ভূতনির ভিটেমাটি হারা বাসিন্দাদের মধ্যে। বরঞ্চ তাঁরা ভিড় জমালেন বিনামূল্যে চিকিৎসা কেন্দ্রে। গত দু’দিন ধরে চলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ওই কেন্দ্রে পরিষেবা নিতে ঢল নামল ভাঙন দুর্গতদের। জমি, বাড়ি না থাকলে আর কিছুতেই মন বসে না, আক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মানিকচক ব্লকের ভূতনি এবছর কয়েকবার বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। বারবার বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে উঁচু জায়গা বা ত্রাণ শিবিরে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে গঙ্গা ভাঙন। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বাড়ি ফিরেছেন বেশিরভাগ দুর্গতরা। তবে, ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে যাযাবরের জীবনযাপন করছে এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার। বাঁধ বা অন্যের জমিতে ত্রিপল টাঙিয়ে কাটছে দিনরাত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে সাহায্য করা হচ্ছে না বলেও দাবি অনেকের। এর মধ্যে জল নেমে যাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে পেট সহ অন্য রোগের প্রকোপ। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে ওই সংগঠন। কালীপুজো ও দীপাবলীর আগে থেকে দু’দিন বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধ দিয়েছে তারা। বিভিন্ন বিভাগের চারজন চিকিৎসক এবং প্রায় তিন লক্ষ টাকার ওষুধ নিয়ে দু’দিনে ভূতনির তিনটি অঞ্চলের পাঁচটি জায়গায় এই শিবির করা হয়। চিকিত্সা করা হয়েছে প্রায় এগারোশো রোগীর।
চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম বলেন, গত বছরও এরকম শিবির করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার বেশি ওষুধ ও চিকিত্সক নিয়ে আসা হয়েছিল। কালীপুজোর মধ্যে শিবির হওয়ায় স্থানীয়রা আসবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিলাম। দেখলাম, রাত এগারোটা পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে। অনেকে চর্ম ও পেটের রোগে ভুগছেন। তাই আরও শিবিরের প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা অজয় মণ্ডল, গোবিন্দ চৌধুরী, মহারানি রবিদাস বলেন, বন্যা আমাদের জমি, বাড়ি সহ সবকিছু গ্রাস করেছে। ত্রিপল টাঙিয়ে থাকি। মন ভালো নেই বলে এবার আর পুজো করিনি।
বামনেতা দেবজ্যোতি সিনহা আবার প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। বলেন, প্রশাসন অপদার্থ। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কোনও স্বাস্থ্য শিবির করেনি এলাকায়। শুধুমাত্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা প্রদান করছে। মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অভীক শঙ্কর কুমার বলেন, ভূতনির বন্যা কবলিত এলাকায় অনেক শিবির করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও করা হবে। নিজস্ব চিত্র।