


সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: জীবনে প্রথম কোনো ভোটে নির্বাচনি এজেন্ট হয়েছেন ঝুলন সান্যাল। ময়নাগুড়ি বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রামমোহন রায়ের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন তিনি। এজন্য প্রার্থী এবং দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ৬১ বছরের ঝুলনবাবু। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়ও দলের নির্দেশে এই বয়সেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য ঝুলন সান্যালকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ঝুলনবাবু ময়নাগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানও। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ময়নাগুড়ির দলীয় প্রার্থী রামমোহন রায়ের নির্বাচনি এজেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। প্রার্থীকে জেতাতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খেটেছেন তিনি। যখন যেখানে প্রয়োজন ছুটেছেন । এই বয়সে দৌড়ঝাঁপে শরীরে ক্লান্তি নেমে এলেও তা গুরুত্ব দেননি। প্রার্থীকে নিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মিটিং-মিছিল করেছেন।
বৃহস্পতিবার ভোটের দিন ভোর ৫টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন ঝুলন সান্যাল। শুক্রবার ভোর ৫টায় বাড়িতে ঢোকেন। দু’চোখের পাতা এক না করে টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি কার্যত ময়দানেই থেকেছেন। ঝুলনবাবু বলেন, বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র। দল আমাকে গুরুদায়িত্ব দিয়েছে। আমার টার্গেট ছিল আমি সেই দায়িত্ব পালন করব। প্রত্যেকের ভালোবাসাই সেই দায়িত্ব পালন করেছি। বিশেষ করে রামমোহন রায়ের নির্বাচনি এজেন্টের দায়িত্ব পেয়ে আমি আরও খুশি। রামমোহন অল্পবয়সি, খুব ভালো ভদ্র ছেলে। ও প্রত্যেককে শ্রদ্ধা করে। নির্বাচন ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের দিন প্রথমে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলি। পরবর্তীতে ময়নাগুড়ি শহর ও ময়নাগুড়ির-১ সাংগঠনিক ব্লকের বিভিন্ন বুথে যাই। রাতে বাড়ি ফেরা হয়নি। জলপাইগুড়ি ডিসিআরসিতেই রাত কেটে যায়। শুক্রবার ভোরে বাড়ি ফিরি। আমি এই প্রথম নির্বাচনি এজেন্টের গুরু দায়িত্ব পাই। আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য দলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
প্রার্থী রামমোহন রায় বলেন, ঝুলন সান্যাল দক্ষতার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন দিন গিয়েছে তিনবারও ওঁকে জলপাইগুড়ি যেতে হয়েছে। ওঁর পরিশ্রম, সকল কর্মীর ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে জয় আমারই হচ্ছে।