Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ফ্লাইং কিস’ দিয়ে বেপাত্তা বিজেপি নেতা, ধরতে টিম গঠন জামালপুর পুলিশের

‘ফ্লাইং কিস’ দিয়ে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে জামালপুরের বিজেপি নেতা। কয়েকদিন আগে সে মোমো খেতে গিয়ে ওই যুবতীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে।

‘ফ্লাইং কিস’ দিয়ে বেপাত্তা বিজেপি নেতা, ধরতে টিম গঠন জামালপুর পুলিশের
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘ফ্লাইং কিস’ দিয়ে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে জামালপুরের বিজেপি নেতা। কয়েকদিন আগে সে মোমো খেতে গিয়ে ওই যুবতীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। কাছে গিয়ে গালে হাত দেয়। পরে ফ্লাইং কিস দিয়ে উধাও হয়ে যায়। যুবতী ওই নেতার বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বেশ কিছুদিন ধরে পুলিশ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এলাকা ছেড়ে চম্পট দেওয়ায় তদন্তকারীরা তাকে পাকড়াও করতে পারেনি। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কেস করা হয়েছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিজেপি নেতা যুবতীকে হামেশাই ফোন করত। তিনি ফোন কেটে দিলেও বারবার সে বিরক্ত করত। রাস্তায় দেখা হলে আগবাড়িয়ে কথা বলতে যেত। ওই যুবতী বলেন, কয়েকদিন আগে সে মোমোর দোকানের কাছে এসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। রাস্তায় লোকজন কম ছিল। সেই সুযোগে সে গালে হাত দেয়। পরে ফ্লাইং কিস দিয়ে সে চম্পট দেয়। ওই ঘটনায় অপমানিত এবং লজ্জিত বোধ করছি। আমার আশঙ্কা, আগামী দিনেও সে এরকম ঘটনা ঘটাতে পারে। থানায় বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি।
স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবক এলাকায় বিজেপির নেতা হিসেবে পরিচিত। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা গিয়েছে। দলে তার প্রভাব রয়েছে। তৃণমূল ছাত্রপরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ বলেন, এটাই বিজেপি নেতাদের চরিত্র। ওরা নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন কথা বলে। অথচ তাদের নেতারাই শ্লীলতাহানি করছে। এটা লজ্জার। বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র পাল বলেন, আমরা সবসময় মহিলাদের সম্মান করি। কেউ অন্যায় করলে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেবে। এক্ষেত্রে দল কখনই ওর পাশে থাকবে না। বিভিন্ন কর্মসূচিতে ও আসত, এটা ঠিকই। কার মনে কী আছে, সেটা বোঝা সম্ভব নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। তার বাড়ি জামালপুর থানা এলাকাতেই। অভিযুক্ত যুবক ওই যুবতীর পরিচিত। তিনি তার সঙ্গে কথা বলতে চাইতেন না। তা সত্ত্বেও ওই যুবক হামেশাই মোমো দোকানের কাছে এসে তাঁকে বিরক্ত করত। বিভিন্নভাবে কথা বলার চেষ্টা করত। কয়েকদিন আগে সে শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। ওই যুবতী পুলিশকে জানিয়েছেন, সেদিন সন্ধ্যায় সে আচমকাই দোকানের সামনে আসে। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফ্লাইং কিস দিতে থাকে। চিৎকার করলে সে চম্পট দেয়। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে আবার সে হামলা করতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ