সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: পুজোয় বনদপ্তরের উপহার। এক বছরেরও বেশি বন্ধ থাকার পর জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে জঙ্গল সাফারির ফের অনলাইন বুকিং চালু করল বনদপ্তর। বুধবার ১৪ অক্টোবর থেকে জঙ্গল সাফারির জন্য অনলাইন বুকিং কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে দেশের ও বিদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই পর্যটকরা জলদাপাড়ার সাফারির জন্য আগাম বুকিং করতে পারবেন। পর্যটকরা এক মাস আগে থেকেই অনলাইনে আগাম বুকিং করতে পারবেন।
জলদাপাড়ায় জিপ সাফারির মোট ৯১২টি ও ৪৮টি হাতি সাফারির আসন আছে। বুধবার বনদপ্তর সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে, জলদাপাড়ার মাদারিহাট, শালকুমার, চিলাপাতা, লঙ্কাপাড়া ও কোদালবস্তি এই পাঁচটি রুটে জঙ্গল সাফারি করা যাবে। বনদপ্তরের জঙ্গল সাফারির অনলাইন বুকিংকে স্বাগত জানিয়েছে পর্যটন সংস্থাগুলি। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেন, জলদাপাড়ার পর্যটনকে সুসংহত, সহজলভ্য ও আরও মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জলদাপাড়ার পর্যটনকে পরিবেশবান্ধব করতেও আমাদের এই পদক্ষেপ।
এদিকে, বনদপ্তরের এই সিদ্ধান্তে এবার জলদাপাড়ার পর্যটনে আরও গতি আসবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। চিলাপাতা জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা বলেন, আমরা বনদপ্তরের এই পদক্ষেপে খুশি। বুধবার রাত থেকেই অনলাইন বুকিং আসতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ জানুয়ারি মাসে আলিপুরদুয়ার জেলা সদরের প্যারেড গ্রাউন্ডে এক প্রশাসনিক সভায় বিগত সরকারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক নির্দেশে জঙ্গল সাফারির ক্ষেত্রে অনলাইন বুকিং তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পর্যটক ও পর্যটন সংস্থাগুলির মধ্যে। জঙ্গল সাফারির আগাম অনলাইন বুকিং করতে না পেরে অফলাইনে বুকিং করতে গিয়ে পর্যটকদের হয়রানি, দালালচক্রের খপ্পড়ে পড়া থেকে নানাভাবে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে অভিযোগ। এবার অনলাইন বুকিং চালু হওয়ায় পর্যটকদের সেই দুর্ভোগ আর
থাকল না।



