


আউশগ্রামের দিগনগরে জগন্নাথদেবের মন্দির। আজও উল্টোরথের আগের দিন সেখানে দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে মালাবদল হয় প্রভু জগন্নাথদেবের। প্রাচীন প্রথা মেনে। বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দের প্রতিষ্ঠা করা প্রাচীন মন্দিরে প্রতিবারই জাঁকজমকভাবে রথের রশিতে টান দেন ভক্তরা। আউশগ্রামের দিগনগরে বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দ প্রভু জগন্নাথদেবের এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি, বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দ একবার পুরীর জগন্নাথদেব দর্শনে যান। বাড়ি ফিরে আসার পর তিনি জগন্নাথদেবের স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নাদেশ মেনে তিনি আউশগ্রামের দিগনগরে জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে সেবায়েতরা মন্দিরে প্রভুর সেবা করতেন। পরে ২০০০ সালে গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয়। তারপর থেকে জগন্নাথদেবের নিত্যসেবা এবং মন্দিরের দেখভাল করেন। কথিত রয়েছে, পুরীতে তীর্থ করার পর আউশগ্রামের দিগনগরে জগন্নাথদেবকে দর্শন না করলে নাকি তীর্থযাত্রা সম্পূর্ণ হয় না। পুরীর জগন্নাথদেবের রীতিনীতি ও আচার সবই এখানে মেনে চলা হয়। দিগনগরের জগন্নাথ দেবের মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সমর সিংহ ও সদস্য সৌরভ দেউরি জানান, রথযাত্রার দিন দু’বার ভোগ নিবেদন করা হয়। তারপর মূল মন্দির থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা রথে চড়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন। মাঝপথে হাটতলার কাছ থেকে জগন্নাথদেব, বলদেব ও সুভদ্রাকে কোলে চড়িয়ে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর উল্টোরথের আগের দিন হয় লক্ষ্মীযাত্রা। সেদিন দেবী লক্ষ্মীকে প্রভু জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি মান ভাঙাতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জগন্নাথদেবের সঙ্গে মালাবদল হয় লক্ষ্মীদেবীর। তার পরের দিন অর্থাৎ উল্টোরথের দিন প্রভু জগন্নাথদেবকে আবার মূল মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। এটাই দিগনগরের জগন্নাথ মন্দিরের প্রথা। প্রতি বছর রথযাত্রা এবং অন্যান্য সময় মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় করেন পুণ্যার্থীরা। দিগনগরের জগন্নাথদেবের মন্দির ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়তে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।