


কালো নয়। জগন্নাথের রং নীল! এমনই বিশেষ ধরনের একটি মূর্তি রয়েছে কেষ্টপুরের খ্রিস্টান পাড়ার দেবনাথ বাড়িতে। আরাধ্যকে সন্তানরূপে পুজো করে এই পরিবার। স্বপ্নাদেশে মহাপ্রভুর এমন রূপের ইঙ্গিত পান বাড়ির কর্ত্রী। সেইমতো মূর্তি গড়ে পুজো শুরু। বছরভর নিত্যসেবা চলে নীল জগন্নাথের। মহিলারাও জগন্নাথকে স্পর্শ করতে পারেন। রথযাত্রায় মহা সমারোহে উৎসবের আয়োজন করে দেবনাথ পরিবার। রথের দিন বারো চাকার কাঠের রথে চড়েন জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। স্থানীয় একজনের বাড়িতে অস্থায়ী মণ্ডপ গড়া হয়। ওটাই নীল জগন্নাথের মাসির বাড়ি। সেখানে সাতদিন রাখা হয় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে। বিশেষ আরাধনা চলে এই সাতদিন। এক্ষেত্রে পুরীর নিয়ম মানা হয়। অর্থাৎ শ্রীক্ষেত্রে জগন্নাথের মাসির বাড়িতে যেভাবে সেবা চলে, এখানেও ঠিক তেমনটাই করার চেষ্টা করেন তাঁরা। জগন্নাথের পাশাপাশি সুভদ্রার মূর্তিতেও বিশেষত্ব রয়েছে। দেবী ভুবনেশ্বরী রূপে সুভদ্রা এখানে পূজিতা। মূর্তিতে রয়েছে ত্রিনেত্র। সচরাচর সুভদ্রার মূর্তিতে এমনটা দেখা যায় না। নীল জগন্নাথের নিত্যভোগে তেমন আড়ম্বর নেই। পরিবারের সদস্য অঙ্কিত দেবনাথ জানিয়েছেন, সাধারণ ফ্যান ভাত আর ডাল সিদ্ধ, এই দুই খাবারে নীল জগন্নাথ সবথেকে তুষ্ট। প্রতিদিন প্রভুর ভোগে এই পদ রাখা হয়। বিশেষ দিনে থাকে পোলাও, পরমান্ন, মালপোয়া সহ একাধিক পদ। আলু, টমাটো সহ বেশ কিছু সবজি কোনও পরিস্থিতিতেই ভোগে ব্যবহার করা হয় না। এলাকায় নীল জগন্নাথের রথ বেশ জনপ্রিয়। হিন্দুদের পাশাপাশি খ্রিস্টানরাও এই রথযাত্রায় অংশ নেন। কয়েক বছর বিশেষ কারণে রথ ছিল না। তখন কোলে করে জগন্নাথদেবকে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হতো। যেন কোনও শিশুকে কোলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে! এবছর আবার নতুন করে রথ তৈরি হয়েছে। বারো চাকার কাঠের রথটি বাংলা ধাঁচে তৈরি। রথের কারুকাজ দেখার মতো। তবে এই রথযাত্রার মূল আকর্ষণ অবশ্যই নীল জগন্নাথ। সাধারণত জগন্নাথ বললে কৃষ্ণবর্ণের মূর্তির কথাই মনে আসে। কিন্তু নীল জগন্নাথের মূর্তিও অপরূপ সুন্দর।