নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এবার জগন্মোহন রেড্ডি। কয়েকদিন আগেই নবীন পট্টানায়েকের বিজু জনতা দল (বিজেডি) নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করে ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেওয়ার আভাস দিয়েছে। এবার জগন্মোহনের ওয়াই এস আর কংগ্রেস সেই পথে হাঁটার আভাস দিল। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সরব হলেন অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত বিজেডি, ওয়াই এস আর কংগ্রেস, ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস)-এর মতো দলগুলি বিগত ১২ বছর ধরে এনডিএ জোটে সরাসরি না থেকেও পরোক্ষে সংসদে বিজেপিকেই সমর্থন জুগিয়েছে। কিন্তু সেই সমর্থনের প্রতিদানে নিজেদের রাজ্যে ক্ষমতাসীন হয়ে থাকার কোনও স্থায়ী আশ্বাস পায়নি। বরং এই তিন দলের হাত থেকেই রাজ্য শাসন চলে গিয়েছে। বিজেডিকে বিপর্যস্ত করে ওড়িশায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। জগন্মোহনের দলকে ধরাশায়ী করে অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডু বিজেপির সমর্থন নিয়ে এনডিএ সরকার চালাচ্ছেন। আর তেলেঙ্গানায় বিআরএস ক্রমেই গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছে। সেখানে সরাসরি কংগ্রেস বনাম বিজেপি লড়াই। নির্বাচন কমিশন বিরোধী বিক্ষোভ আন্দোলনে ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে আসতে চেয়ে অতি তৎপর হয়েছে বিজেডি। এক সপ্তাহের মধ্যে এবার জগন্মোহনও ককরোচ জনতা পার্টিকে সমর্থন করে তাদের গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে রোখা যায় না। এভাবে গ্রেপ্তার করে প্রতিবাদের কন্ঠরোধ করা অগণতান্ত্রিক হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন জগনমোহন। বস্তুত এত বছর ধরে বিজেপিকে পরোক্ষে সাহায্য, সমর্থনের পর এবার ধীরে ধীরে এই দলগুলি নিজেদের বিপদ ও গুরুত্বহীনতা অনুধাবন করে বিরোধী জোটের ছাতার নীচে আসতে চাইছে। তাহলে কি ওই রাজ্যগুলিতে বিজেপির প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার কোনও আভাস অথবা মোহভঙ্গের বার্তা পাচ্ছেন নবীন কিংবা জগন্মোহন? তাই আগে থেকেই বিরোধী জোটে আসার পথ খুলছেন?



