তেল আভিভ: রক্তে বয়ে যাচ্ছে ককপিট। বিমানে থাকা ‘ক্রাশ অ্যাক্স’ দিয়ে পাইলটকে একের পর এক আঘাত করে চলেছে ওমানি কো-পাইলট। ওই কুঠারের আঘাত সহ্য করার পরও ককপিটের দরজা খুলে দিতে পেরেছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মুচ্ছার। তাঁর এই একটি কাজেই বেঁচে যায় ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ১৭৪টি প্রাণ। সহ পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার পর কী হচ্ছে দেখতে সেখানে ছুটে যান বিমানের যাত্রী মুসাইভ শোটা। পেশায় দন্ত চিকিৎসক ইজরায়েলের নাগরিক শোটাই মৃত্যুর মুখ থেকে স্মিতকে বাঁচিয়ে এনেছেন।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে শোটা জানিয়েছেন, ‘কিছু একটা ঘটছে বুঝে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারিনি। সোজা ককপিটের দিকে এগিয়ে যাই। দেখি, পাইলটের অবস্থা গুরুতর। তাঁর মাথা-হাত থেকে গলগল রক্ত বের হচ্ছে।’ সংকটের মুহূর্তে তিনি পাইলটের জীবন বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শোটা জানান, ‘বিমানে আমিই একমাত্র চিকিৎসক ছিলাম। তাঁর রক্ত বন্ধ করতে পেরেছিলাম। পাইলটের রক্তচাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনি। বিমান অবতরণের আগে পর্যন্ত পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।’ সিএনএনকে শোটা জানিয়েছেন, ‘তাঁর হাত ও মাথা চিরে গিয়েছিল।’ পাইলটকে বাঁচানোর পাশাপাশি তিনি অন্য যাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে আক্রমণকারী কো-পাইলটকে বেঁধে ফেলেন। তবে স্মিতের চোট যে গুরুতর ছিল, এমনটা মনে করছেন না শোটা। তাঁর মতে, অত্যধিক রক্তক্ষরণের জন্যই তিনি জ্ঞান হারান।
তার আগে রক্তাক্ত অবস্থাতেই স্মিত জানিয়েছিলেন, তাঁর ৩৯ বছর বয়স। দুই সন্তান রয়েছে। শোটার কথায়, ‘সারাক্ষণ তিনি প্রার্থনা করছিলেন। আর আমি আশংকা করছিলাম, তাঁর খারাপ কিছু ঘটে না যায়। এরপর তাবুকে বিমানটি অবতরণের পর সৌদির চিকিৎসক টিম তাঁকে নিয়ে যায়। সেই চিকিৎসকদের থেকেই জানতে পেরেছি, তিনি বিপন্মুক্ত।’
পাইলট হিসাবে ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে স্মিথ মুচ্ছারের। ভারতীয় বিমান সংস্থা স্পাইসজেটে ১০ বছর কাজ করার পর ২০২২ ফ্লাইদুবাইতে সরাসরি পাইলট হিসাবে যোগ দেন তিনি। ১৩ বছরের বেশি বোয়িং ৭৩৭ চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। স্কুলের পড়া শেষ করে পারিবারিক ব্যবসার কথা মাথায় রেখে তিনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করেন। এরপর ম্যানেজমেন্ট কোর্স করার সময় একটি সেমিনারে পাইলট নিয়ে একটি ওয়ার্কশপে যোগ দেন। সেখানেই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি আসলে কী চান। এরপর আর তাঁর পাইলট হওয়া আটকায়নি।
এখন প্রশ্ন হল ‘ক্রাশ অ্যাক্স’ বিমানের ককপিটে এল কীভাবে? আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, বিমানে তা রাখা বাধ্যতামূলক। আটকে যাওয়া দরজা বা প্যানেল ভাঙতে, আগুন নেভানোর ফায়ার এক্সটিংগুইজার ভাঙতে এবং বৈদ্যুতিক তার কাটার মতো কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। আগে যাত্রীদের কেবিনে এটি লুকানো থাকত। ৯/১১ হামলার পর এটি ককপিটে রাখা হয়।