সত্যজিৎ চ্যাটার্জি: ভরদুপুরে প্রচণ্ড গরম। তার উপর মোহন বাগান তাঁবুতে লোডশেডিং। লনে গাছের ছায়ায় তোয়ালে পেতে আধশোয়া অমল দা। হাতের ইশারায় ডাকতেই গুটিগুটি বসলাম কোচের পাশে। মাটির ঢেলা সাজিয়ে ফর্মেশন বোঝাতে শুরু করলেন তিনি। ‘সত্য, এবার নতুন ফর্মেশনে দলকে খেলাব। দেখবি, ময়দান কেঁপে যাবে।’ শ্রদ্ধেয় কোচ একটু ভুল বলেছিলেন। শুধু ময়দান নয়, সেবার গোটা ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল ডায়মন্ড সিস্টেম। ফেডারেশন কাপ সেমি-ফাইনালে যুবভারতীর ডার্বি নিয়ে আজও প্রবল চর্চা। অমল দত্ত বনাম পিকে ব্যানার্জির দ্বৈরথ ওই ম্যাচকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়।
১৯৯৭ সাল। অমল দত্তের নতুন সিস্টেম ঘিরে প্রবল কৌতূহল। ফেড কাপের প্রথম ম্যাচে কোনওক্রমে পাঞ্জাব পুলিসকে হারায় মোহন বাগান। ডায়মন্ড দানা বাঁধবে তো? প্রখ্যাত কোচকে অতটা টেনশনে ভুগতে কখনও দেখিনি। কিন্তু ঘরোয়া লিগ শুরু হতেই গোটা দলের রণংদেহী। ৩-২-৩-২ ফর্মেশনে ময়দান উথালপাতাল। ফেড কাপে চার্চিলকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমি-ফাইনালে পৌঁছই আমরা। এবার ডার্বি। অমল বনাম পিকের তাল ঠোকাঠুকি। ১৩ জুলাই ঐতিহাসিক ম্যাচের কয়েকদিন আগেই নিঃশেষিত টিকিট। ট্রেন, বাস, চায়ের দোকানে ফুটবল ছাড়া কোনও কথা নেই। সবাই ফুটছে। যাই হোক, ম্যাচের কথায় আসা যাক। তবু কোন অঙ্কে বাজিমাত করল মশালবাহিনী? আক্রমণের নেশায় গোটা মোহন বাগান বুঁদ। আর সেটাই কাজে লাগায় ইস্ট বেঙ্গল। প্রতি-আক্রমণ ও ডেড বল মুভমেন্টে ফায়দা তোলেন প্রদীপদা। সেদিন বাইচুং আর স্যামি ওমোলোর উপর যেন ঈশ্বর ভর করেছিলেন। চিমা ব্যবধান কমানোর পর মোক্ষম সুযোগ আসে লোলেন্দ্রর কাছে। কিন্তু অবিশ্বাস্য ট্যাকলে বল বাইরে পাঠায় ওমোলো। গোল পেলে ম্যাচটা ২-২ হয়ে যেত। আমার মতে, এটাই টার্নিং পয়েন্ট।