সকলেই নিজেদের সাংবাদিক দাবি করলে সুরক্ষা দেওয়া কঠিন, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: যখন সকলেই নিজেকে সাংবাদিক বলে দাবি করে, তখন স্বীকৃত সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া ‘কঠিন’ হয়ে পড়ে। দিল্লিতে আন্দোলন চলাকালীন সাংবাদিকদের উপর পুলিশি হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এমনই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। বেঞ্চের বক্তব্য, ‘ মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে এখন সকলেই নিজেদের সাংবাদিক বলেন। ফলে স্বীকৃত সাংবাদিক এবং ডিজিটাল মাধ্যমে কর্মরতদের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানা যে কঠিন হয়ে পড়ছে, সেই বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। শীর্ষ আদালতের ইঙ্গিত, স্বীকৃত সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ‘সুরক্ষা স্তর’-এর ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এবং তাঁদের থেকে ইনফ্লুয়েন্সার ও বাকিদের আলাদা করাও প্রয়োজন। এই বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি করা প্রয়োজন। এদিকে, যে সব সাংবাদিক বিক্ষোভস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন, তাঁদের জন্য গাইডলাইন তৈরি করেছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। তাতে সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র, সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

Advertisement

গত ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। মহিলা সহ যে সব সাংবাদিক ওইদিন কর্মসূচি ‘কভার’ করতে গিয়েছিলেন, তাঁদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। তাই নিয়ে মামলা দায়ের হয়। এদিন আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং আদালতে জানান, সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জাতীয় প্রোটোকল থাকা প্রয়োজন। তার প্রেক্ষিতেই ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে সাংবাদিকদের চিহ্নিত করার বিষয়টি উঠে আসে। যন্তরমন্তরের কাছে বিক্ষোভ চলাকালীন এক মহিলা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিকের উদ্দেশে জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য ও অপমান করার অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে ওই মহিলা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যেন কঠোর পদক্ষেপ করা না হয়, তার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। 
এদিন আইনজীবী জয়সিং আদালতে জানান, বিক্ষোভ চলাকালীন এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা নিয়ে কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এছাড়া আরও কয়েকজন মহিলা সাংবাদিকদের কাজ করার সময় ধাক্কা দেওয়া ও হেনস্তা করা হয়। ওই ঘটনাগুলিতেও পুরুষ পুলিশ আধিকারিকের দিকে আঙুল উঠেছে। এই অভিযোগগুলি ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে আখ্যা দিয়ে পুলিশকে খতিয়ে দেখতে এবং তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মহিলা সাংবাদিকদের অভিযোগ নিয়ে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন জয়সিং। শুনানিতে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘এখন অনেকেই হাতে মাইক্রোফোন আর মোবাইল ফোন নিয়ে নিয়ে নিজেদের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক দাবি করেন। এঁরা শুধুমাত্র সমাজমাধ্যমে রিল তৈরি করেন। ’