অগ্নিমিত্রার আর্জি মানল না ইস্কো, মোটা টাকা নিয়েই দুর্গাপুজোর অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ইস্পাত শহর বার্নপুর। ইস্কোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে আধুনিক শহর। নতুন পরিচিত পায় হীরাপুর ধরমপুরের মতো পুরনো গ্রামগুলি। শহরের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুজোর সংখ্যাও লাফিয়ে বেড়েছে। ইস্কোর জমিতেও ঘটা করে পুজো শুরু হয়। গড়ে ওঠে বহু ক্লাব। চলতি বছর পুজোর সমন্বয় বৈঠকে একের পর এক পুজো উদ্যোক্তা অভিযোগ করেছিলেন, পুজো করার জমি ও বিদ্যুতের অনুমতি দিতে মোটা টাকা দিতে হয় ইস্কো কর্তৃপক্ষকে। রাজ্য সরকার পুজোয় বিদ্যুৎ যেখানে বিনামূল্যে করেছে, ডাবল ইঞ্জিনের রাজ্যে ইস্কোও সেই পথে হাঁটুক। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইস্কোর প্রতিনিধিরাও। মঞ্চ উপস্থিত এলাকার বিধায়ক তথা পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ইস্কোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করার অনুরোধ করেন। 

Advertisement

অথচ, মন্ত্রীর সেই আর্জি কার্যত কানেই তুললে না সেইলের অধীনে থাকা সেইল আইএসপি বা ইস্কো কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রবাদী বিজেপি সরকারের আমলেও পুজোর করতে মোটা টাকা কার্যত ‘চাঁদা’ দিতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে। যা নিয়ে  পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যেভাবে ইস্কো কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীর আর্জিকেও আমল দিল না, তাতে অনেকেই হতবাক। শুধু চাঁদা নেওয়াই নয়, আগামী বছরগুলিতে নিজেদের জায়গায় পুজো করতে পারবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 
রাজ্যে পালা বদলের পর বিজেপি সরকার আসতেই উচ্ছেদ অভিযানে গতি বাড়ায় ইস্কো কর্তৃপক্ষ। নওজোয়ান, নেতাজি স্পোর্টিং সহ একাধিক ক্লাব ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। যাঁরা বিভিন্ন পুজো ঘটা করে পালন করে আসছিল। এবার সেই সব ক্লাবগুলি যখন পুজোর অনুমতি চা‌ই঩তে যায় অনেককেই প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন বছরে যেখানে পুজো হচ্ছে সেই জায়গা খালি নাও থাকতে পারে। অর্থাৎ বন্ধ হওয়ার মুখে একাধিক দুর্গাপুজো। একাধিক পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট শ্রমিক সংগঠন প্রতিটি ক্লাবের কমিটিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছে। তাদের পছন্দ মতো কমিটি না হলেই আবাসিকদের পুজোতে চাঁদা দিতে বারণ করা সহ নানা বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ। যদিও শত বাধা পার করেও এবার বার্নপুরের পুজো কমিটিগুলি ঘটা করে পুজো করতে মরিয়া। 
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘দু’টি বিষয় নিয়ে আমি অবশ্যই খোঁজ নেব। কেন পুজো কমিটিগুলিকে ফ্রি অনুমতি দেওয়া হল না, তা আমি সেইল কর্তৃপক্ষর কাছে জানতে চা‌ইব।’ বার্নপুরের মসজিদ রোডে নেতাজী স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো থিম হাজার হাজার দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করেছে। ১৯৬৫ সালে স্থাপিত সেই ক্লাবও ভেঙে দিয়েছে ইস্কো কর্তৃপক্ষ। পুজো পর্যন্ত কোনওরকমে সেখানে বসার অনুমতিটুকু মিলেছে। এই অবস্থাতেও তাঁদের ৫৫তম বর্ষে রয়েছে থিমের চমক। পুজোর থিম কুলফি শিখা। শিশুদের প্রিয় কুলফিকেই তাঁরা তুলে ধরেছে। 
এবি টাইপের পুজো এবার ৪৭তম বর্ষে পা দিল। তাঁদের পুজোর থিম আদিবাসী। তাঁদের অনেকের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে ব্যবহার করে ভিনরাজ্যের শ্রমিকরা পুজোতে নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন। রামবাঁধ ফ্রেন্ডস ক্লাবের পুজোর থিম আমারা দুর্গা। বিভিন্ন পেশায় যে নারীরা সফল তা তুলে ধরা হয়েছে এই মণ্ডপে। এছাড়াও পুজো হচ্ছে নিউটাউন আমরা সবাই ক্লাবেও।