Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেষমেশ কি অনাস্থার দিকেই এগচ্ছে রঘুনাথপুর পুরসভা, চর্চা শহরজুড়ে

শেষমেশ কি অনাস্থার দিকেই এগচ্ছে রঘুনাথপুর পুরসভা, চর্চা শহরজুড়ে
  • ১৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পুর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তৃণমূল পরিচালিত রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের কেউ তলবি সভা ডাকলেন না। আইন অনুযায়ী এবার অনাস্থা আনা তিন কাউন্সিলার কয়েক দিনের মধ্যে তলবি সভা ডাকবেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পুরসভার অনাস্থা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনাস্থার পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা কাউন্সিলারদের নিয়ে দল বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বৈঠকে অনাস্থা আনা কাউন্সিলাররা উপস্থিত হননি। তাই প্রশ্ন উঠছে, দল কি চেষ্টা করেও অনাস্থা আটকাতে পারছে না। কারণ অনাস্থার পক্ষে থাকা কাউন্সিলাররাই সংখ্যা গরিষ্ঠ। তাই চেয়ারম্যানের গোষ্ঠী আস্থা অর্জন করতে পারবে না। তাহলে কি শেষমেশ অনাস্থা হবেই? নাকি সমস্ত প্রক্রিয়াটি আইনি জটিলতার দিকে এগবে। এখন শহরজুড়ে সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর পুরসভায় মোট ১৩টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে তৃণমূল কংগ্ৰেসের দখলে আছে ১০টি আসন। দু’টি কংগ্ৰেস ও ১টি বিজেপির দখলে রয়েছে। দীর্ঘদিন পুরসভার কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলারের সঙ্গে চেয়ারম্যানের বনিবনা নেই। শেষ অবধি সেই বিবাদ অনাস্থা প্রস্তাব অবধি গড়িয়েছে। দলীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে  দলের ৬ ও কংগ্ৰেসের এক কাউন্সিলার অনাস্থা এনেছেন। গত ২৪ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২ মে রঘুনাথপুর মহকুমা শাসক পুরসভার চেয়ারম্যানকে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য সভা ডাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট সময় অবধি সভা ডাকেননি। ফলে গোটা বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে।
রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণি বাউরি বলেন, দল আমাকে চেয়ারম্যান করেছে। দল আমাকে কোনও সভা ডাকার কথা জানায়নি। আগেও জানিয়েছি, দল নির্দেশ দিলে আজেই চেয়ার ছেড়ে দেব।
উল্লেখ্য, পুর আইন অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে চিঠি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে সভা ডাকতে হয়। সেই সময়সীমা পার হয়ে গিয়েছে। এরপর পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যানের সভা ডাকার কথা। তাই সভা ডাকার তিনদিন আগে কাউন্সিলারদের নোটিস দিতে হয়। সময় পেরিয়ে গেলেও ভাইস চেয়ারম্যান সভা ডাকার বিষয়ে সচেষ্ট হয়নি। সেই ক্ষেত্রে এবার পুরসভার ৩ জন কাউন্সিলার অনাস্থার বিষয়ে তলবি সভা ডাকবে। অন্যদিকে, গুজব ছড়িয়েছে তার আগেই অনাস্থা এড়াতে প্রশাসন পুরসভায় প্রশাসক বসাতে পারে। তেমন হলেও সমস্যা মিটবে না। কারণ এর আগে ঝালদা পুরসভাতেও দলীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা ক্ষমতা দখল করেছে। দল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বিষয়টিকে উদাহরণ হিসাবে দেখছেন বিক্ষুব্ধরা।
রঘুনাথপুর পুরসভায় অনাস্থা আনা কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রণব দেওঘরিয়া, মৃত্যুঞ্জয় পরামানিক বলেন, সময় পেরিয়ে গেলেও চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান অনাস্থার বিষয়ে কোনও সভা ডাকেনি। এবারে আমাদের মধ্যে তিনজন কাউন্সিলার সভা ডাকবে। সেই ক্ষেত্রে আইনি জাটিলতার সৃষ্টি করতে চাইলে প্রয়োজনে আমরা আদালতে যাব।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দলের তরফ থেকে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অনাস্থা আনা কাউন্সিলাররা আসেননি। রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দলের বিরুদ্ধে কাজ করা কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ