নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: বাংলাদেশি সন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল মুর্শিদাবাদের রানিনগর থানার পুলিশ। তারপর তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় হোল্ডিং সেন্টারে। প্রায় দুমাস তিনি সেখানেই রয়েছেন। অথচ ওই ব্যক্তির যুক্তি তাঁর আধার, প্যান কার্ড প্রভৃতি রয়েছে। তাহলে কীভাবে তিনি বাংলাদেশি! এই অভিযোগেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে রাজ্যের আইনজীবী যুক্তি দেন, জাল নথি দিয়ে আধার প্যান তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যের এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, আধার, প্যান কার্ড বাতিল না-করেই কীভাবে ওই ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হল? ১৯৭০-এর দশকে যত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে কি চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো সম্ভব? মৃত বাবার ছেলে, এই বিষয়টি প্রমাণ করতে না-পারলেই কি তিনি বাংলাদেশি!
গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশি সন্দেহে রানিনগর থানার পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। ১০ আগস্ট তাঁকে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়। এখন পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘কেউ যদি তাঁর মৃত বাবার ছেলে—এটাও প্রমাণ করতে না পারেন, তা হলে কি তিনি বাংলাদেশি হয়ে যাবেন?’ আদালতের বক্তব্য, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না-করে কোনো ব্যক্তিকে আটক রাখা যায় না।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এই ধরনের একাধিক মামলা অন্য বেঞ্চে চলছে। জাল নথি ব্যবহার করে আধার বা প্যান তৈরি করা হয়ে থাকলে তা নির্বাসনের কারণ হতে পারে। আদালত পালটা জানায়, কাউকে নির্বাসনের আগে তিনি কোন দেশের নাগরিক, তা প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক নথি ও তথ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি। যদিও মামলাটি ছেড়ে দেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। তিনি জানান, বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।