


প্যারিস: ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির আকাল দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে গ্লোবাল স্ট্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে বাজারে তেলের জোগান দেওয়ার বিষয়ে আইইএ’র তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। কী বলা হয়েছে প্রস্তাবে? সূত্রের খবর, মজুত থাকা তেল থেকে প্রথম মাসে ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি বাজারে ছাড়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী দু’-তিন মাসে সেই তেলের পরিমাণ ৪০ কোটি ব্যারেল ছাড়াতে পারে। এর আগে ইউক্রেনে রুশ অভিযানের পর আইইএ-র সদস্য দেশগুলি সবচেয়ে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে যেতে পারে। গোটা বিশ্বে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই জরুরি মজুত ভাণ্ডার থেকে এই রেকর্ড পরিমাণ স্টক বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সাধারণত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে বা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলে স্ট্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে বিশ্ব বাজারে তেল ছাড়া হয়। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত ও ইরানের হুমকির মুখে তেলবাহী ট্যাঙ্কার যাতায়াত প্রায় বন্ধ। ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। দামও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্লোবাল স্ট্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে বাজারে তেলের জোগান দেওয়ার প্রস্তাব দিতে চলেছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি।
সূত্রের খবর, আগামী দু’মাস ধরে বাজারে এই তেলের জোগান দেওয়া হতে পারে। জার্মানির অর্থমন্ত্রী ক্যাথেরিনা রেইখ ইতিমধ্যে ৪০ কোটি ব্যারেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেই তালিকায় জার্মানি থাকলেও আমেরিকা ও জাপান সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেলের জোগান দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।