সংবাদদাতা, বহরমপুর: ১৬ এপ্রিল থেকে জেলার সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম পার্বিক মূল্যায়ন শুরু হচ্ছে। প্রতিবছর এই দিন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মর্নিং সেশন চালু হয়। এবার শিক্ষাদপ্তর থেকে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও নির্দেশিকা না আসায় শিক্ষিক ও অভিভাবক মহল ধন্দে পড়েছেন। ১৬ এপ্রিল থেকে স্কুল মর্নিং হবে না ডে সেশনে হবে তা জানতে বারবার স্কুলে আসছেন অভিভাবকরা। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তার কোনও জবাব নেই। জেলা বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান আশিস মার্জিত অবশ্য বলেন, সঠিক সময়ে স্কুলগুলিতে এই সম্পর্কিত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। চিন্তার কোনও কারণ নেই। কিন্তু অভিভাবকরা তো চিন্তিত। চিন্তিত শিক্ষকরাও। কারণ, ১৬ এপ্রিলের আগে বেশ কয়েকদিন ছুটি রয়েছে। শুক্র ও শনিবার স্কুল খোলা থাকছে। কিন্তু শনিবার শিক্ষা সংসদ বন্ধ। শুক্রবারের মধ্যে শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশিকা আসবে কি না, তা নিয়েই চিন্তা।
মুর্শিদাবাদে ৩ হাজার ১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পড়ুয়ার সংখ্যা ৬ লক্ষ ১০ হাজার ২৬৫ জন। ১৬ এপ্রিল একই দিনে সমস্ত স্কুলে প্রথম পার্বিক মূল্যায়ন শুরু হবে। সেদিন স্কুল সকালে হবে, না বেলায় হবে তা এখনও জানা যায়নি। আগের বছরগুলিতে ১৬ এপ্রিল থেকে সকালে স্কুল শুরু হয়েছিল। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বিকাশ দাসের মা দেবশ্রী দাস বলেন, ছেলেকে ১৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে কখন পাঠাব এখনও জানতে পারিনি। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র কুন্তল দের অভিভাবি বাসন্তী দে বলেন, বৃহস্পতিবার মহাবীর জয়ন্তী, সোমবার চরক আর মঙ্গলবার নববর্ষের ছুটি। স্কুলের সিদ্ধান্ত জানতে শুক্রবারের দিকে চেয়ে রয়েছি।
এদিকে অভিভাবকদের জবাবদিহি করতে করতে হয়রান বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা। বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের ২ নম্বর তেজপাল লোহিয়া জিএসএফপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিন্দ্য সিনহা বলেন, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক কোনও নির্দেশিকা আসেনি বলে জানিয়েছেন। অভিভাবকদের সে কথাই বলছি। ওই চক্রের ১ নম্বর মণীন্দ্রনগর জিএসএফপি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভাসচন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমরা মর্নিং স্কুল চাইছিলাম। কিন্তু কোনও নির্দেশিকা না আসায় ডে সেশনেই পরীক্ষা হবে বলে অভিভাবকদের বলছি। মর্নিং স্কুলের নির্দেশিকা এলে যেভাবেই হোক অভিভাবকদের খবর পৌঁছে দিতে হবে।