নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইফোনের উপর অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল জড়ানো। মোবাইল উদ্ধারের পর আইফোনে এই ফয়েল লাগানো দেখে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়। এই নিয়ে অভিযুক্তকে জেরা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে রেল পুলিশ। মোবাইল লিফটিংয়ের অভিযোগে নৈহাটি জিআরপির হাতে ধৃত কর্ণাটকের বাসিন্দা নরিসিমার দাবি, এই ফোন যাতে ট্র্যাক না করা যায়, সেজন্য এই কৌশল নিচ্ছে তারা। অভিযুক্তের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল উদ্ধার করেছে নৈহাটি জিআরপি। পুজোর ভিড়ে মোবাইল হাতাতে রাজ্যে এসেছিল কর্ণাটকের এই কেপমার।
পুজোর সময় কেপমার, মোবাইল লিফটিং গ্যাং নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে রেল পুলিশ। কয়েকদিন আগে তাদের কাছে খবর আসে দমদম, শিয়ালদহ, নৈহাটি সহ বিভিন্ন স্টেশনে দক্ষিণ ভারত থেকে আসা একটি গ্যাং ভিড়ের মাঝে ঢুকে মোবাইল হাতাচ্ছে। সেইমতো নজরদারি চালাতে গিয়ে নৈহাটি জিআরপির হাতে রবিবার ধরা পড়ে এক ব্যক্তি। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় আইফোন সহ বিভিন্ন ধরনের মোবাইল। জিজ্ঞাসাবাদে জানায় তার নাম নরিসিমা। সে কর্ণাটক থেকে এসেছিল পূজোর সময় মোবাইল হাতাতে। চুরির মোবাইল সে দক্ষিণ ভারতে নিয়ে চলে যায়। সেখানে চোরাই হ্যান্ডসেটের কারবারিদের কাছে বিভিন্ন দামে বিক্রি করে।
তদন্তকারীদের নজরে আসে, চুরি করা একটি আইফোনে টেপ জড়ানো রয়েছে। দেখা যায় সেটি অ্যালুমিনিয়ামের। ফয়েলের মধ্যেই রয়েছে পুরো মোবাইলটি। তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েলের মাধ্যমে একটি ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক শিল্ড তৈরি করা হয়েছে। যা মোবাইলটির নেটওয়ার্ক এবং ট্র্যাকিং আটকাতে ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকস্তরে ফয়েল মুড়িয়ে দিলে আইফোনের ফাইন্ড মাই নেটওয়ার্কের সিগন্যাল বাইরে আসতে পারে না। ফলে ফোনটি অফলাইন দেখায়। ধৃত জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, আইফোন চুরির পর এই কারণে তারা অ্যালুমিনিয়ামের ফয়েল ব্যবহার করছে। তাতে মোবাইলটি ট্র্যাক করা যাচ্ছে না। নতুন এই কৌশল নেওয়ার কারণে আইফোন উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশকে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে চুরির পর এই ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সে বিক্রি করে দিচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। কারা এগুলি কিনছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে।



