নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড। বাংলায়, যাকে বলা হয়, বিনিয়োগ প্রতারণা। প্রথমে ফোন বা মেসেজ। তারপর উচ্চ রিটার্নের টোপ। অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিগুণ পর্যন্ত রিটার্ন! সেই লোভ সামলাতে না পেরে বহু মানুষ মুড়ি মুড়কির মতো গচ্ছিত টাকা বিনিয়োগও করেছেন। ডাউনলোড করা অ্যাপে দেখছেন—লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিজের বিনিয়োগ করা টাকা। আনন্দের শেষ নেই। কিন্তু, টাকা তুলতে গিয়েই মাথায় বজ্রপাত হওয়ার জোগাড়। কারণ, অ্যাপে কোটি কোটি টাকা ব্যালেন্স দেখালেও এক পয়সাও তুলতে পারছেন না কেউ! আসলে, প্রতারকরা ভুয়ো ব্যালেন্স দেখানোর জন্য ভুয়ো অ্যাপও তৈরি করছে। সেই অ্যাপ ডাউনলোড করাচ্ছে প্রতারিতদের। সেই ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, দিন দিন বাড়ছে এই বিনিয়োগ প্রতারণা। বহু মানুষ ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে বাড়িতে বসেই বিনিয়োগ করতে চাইছেন। সেই সুযোগকেই হাতিয়ার করছে প্রতারকরা। বেশিরভাগ সাইবার প্রতারণায় প্রবীণ নাগরিকরাই প্রতারিত হন। কিন্তু, এই বিনিয়োগ প্রতারণায় প্রতারিত হচ্ছেন বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরাও। প্রতারিতদের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, তাঁরা অন্য সাইবার ক্রাইম নিয়ে সচেতন। কিন্তু, উচ্চ রিটার্নের লোভেই তাঁরা বিনিয়োগ করে ফেলেছিলেন। বিধাননগরে এই ধরনের অপরাধের ফাঁদে পড়ে অসংখ্য মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। কেউ টাকা ফিরে পেয়েছেন। কেউ পাননি। বিনিয়োগ করতে গিয়ে এখন দেনায় পড়েছেন।
পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা প্রথমে ফোন করছে। কাউকে আবার হোয়াটসঅ্যাপ করতে। বিনিয়োগের ইচ্ছে প্রকাশ করলেই তারা টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে রিটার্নের নানা ভুয়ো স্কিম জানাচ্ছে। যারা বিনিয়োগ করছেন, প্রতারকরা তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিঙ্ক পাঠাচ্ছে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলে একটি অ্যাপ ডাইনলোড হচ্ছে। তাতে বিনিয়োগের ব্যালেন্স দেখার জন্য একটি ইন্টারফেস থাকছে। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলেই সেখানে মূলধন সহ রিটার্নের ব্যালেন্স দেখা হচ্ছে। আসলে তা ভূয়ো। কিন্তু, সাধারণ মানুষ বিনিয়োগের সময় তা আসল ভাবছেন। ফলে, আরও বিনিয়োগ করছেন।
শেষে টাকা তুলতে গেলেই প্রতারকরা নানা অজুহাত দেয়। ট্যাক্স পেমেন্ট করার নাম করে আরও টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপর বিনিয়োগকারীদের হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দেওয়া হচ্ছে। তারপর প্রতারকদেরও ফোন সুইচ অফ!



