৫৮’র বদলে এবার ৬টি শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে  নয়া পরিচিতি পাবে জমি, অনলাইন পরিষেবা সহজতর করতে উদ্যোগ
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে জমির শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নবান্ন। বর্তমানে জমির ৫৮টি শ্রেণিকে ছ’টি বৃহত্তর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে জমির শ্রেণি সংক্রান্ত বিভ্রান্তি অনেকটাই কমবে। অনলাইনে জমি সংক্রান্ত কাজকর্মও আরও সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। 

Advertisement

রাজ্যের ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে জমির পরচা বা স্বত্বলিপিতে যেসব শ্রেণি রয়েছে, সেগুলিকে ভূমি ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী বৃহত্তর শ্রেণিতে নতুনভাবে চিহ্নিত করা হবে। এর জন্য রাজ্যের তথ্যকেন্দ্রে সংরক্ষিত কম্পিউটারভিত্তিক জমির তথ্যভাণ্ডার এবং ‘ই-ভূচিত্র’ ব্যবস্থাতেও  প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
কোন ছ’টি শ্রেণিতে ভাগ হবে জমি? শিল্প, প্রাতিষ্ঠানিক, কৃষি, আবাসিক, জনপরিষেবা এবং জলাশয়। চালকল, বরফকল, শিল্প, কারখানা, পাথর ভাঙার কারখানা এবং শিল্পতালুককে ‘শিল্প’ বা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, গ্রন্থাগার, হাসপাতাল, ডাকঘর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলস্টেশন, থানা ও দমকলকেন্দ্রকে রাখা হয়েছে ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ বা ‘ইনস্টিটিউশনাল’ শ্রেণিতে। শালি, শুনা, ডাঙা, আউশ, আমন, ধান, বাগান, সয়েম, দুয়েম, আবাদি ও জালকারের মতো জমির প্রচলিত শ্রেণিগুলিকে ‘কৃষি’ বা ‘এগ্রিকালচার’ শ্রেণির অধীনে দেখানো হয়েছে। আর বাস্তুভিটা, বাড়ি, ঘর, দালান, টাউনশিপ, আবাসন ও হোটেলের মতো শ্রেণি পড়বে ‘আবাসিক’ বিভাগের আওতায়। কবরস্থান, শ্মশান, ভাগাড়, পথ, রাস্তা, সেতু, নলকূপ, বাসস্ট্যান্ড ও খেলার মাঠকে ‘জনপরিষেবা’ বা ‘পাবলিক ইউটিলিটি’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। জলাভূমি, দিঘি, পুকুর, ডোবা, বিল, ঝিল, খাল, ঝোরা, জলাশয়, নালা ও নয়ানজুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘জলাশয়’ বা ‘ওয়াটার বডি’ শ্রেণিতে।
রাজ্যের তরফে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলার সেটেলমেন্ট অফিসার তথা জেলা ভূমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক প্রয়োজন অনুযায়ী জমির বর্তমান শ্রেণিবিভাগ অথবা নতুন বৃহত্তর শ্রেণির অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন কিংবা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারবেন। সেই প্রস্তাব বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারবেন। কিন্তু হঠাৎ করে এই পদক্ষেপের প্রয়োজন পড়ছে কেন? রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে আরও সহজে জমির তথ্য অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের কাছে এই প্রস্তাব এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে নানা কারণে এই পরিবর্তনের পদক্ষেপ করা হয়নি রাজ্যের তরফে। শেষমেশ রাজ্যে পালাবদলের পর এনিয়ে ফের নাড়াচাড়া শুরু হয়। শীর্ষ মহলের গ্রিন সিগন্যালের পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্য।’