সংবাদদাতা, বোলপুর: বোর্ড-পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের জট কাটার পথে বিশ্বভারতীর দুই ঐতিহ্যবাহী স্কুল পাঠভবন ও শিক্ষাসত্র। দুই স্কুলকে কেন্দ্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানিয়েছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি কেন্দ্রীয় স্কুলশিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে। স্বীকৃতি মিললে চাকরির ক্ষেত্রে দুই স্কুলের পড়ুয়াদের দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে বলে আশা।
এই নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, দুই স্কুলের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনেই প্রক্রিয়া এগচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী শিক্ষক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অনুমোদন পেলেই আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ হয়ে যাবে।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন পাঠভবন ও শিক্ষাসত্র কোনও প্রচলিত রাজ্য বা কেন্দ্রীয় স্কুল বোর্ডের অধিভুক্ত ছিল না। বিশ্বভারতীর নিজস্ব ‘জয়েন্ট ইনস্টিটিউট বোর্ড’-এর ব্যবস্থাতেই দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়া হত। ফলে বিভিন্ন চাকরির আবেদনে বোর্ডের নাম নিয়ে সমস্যায় পড়তেন প্রাক্তনীরা। ব্যাংক, রেল, ডাকবিভাগ সহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে বোর্ডের স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠত। ইন্টারভিউয়ের পর্যায় থেকে বাদ পড়ার অভিযোগও রয়েছে। এই নিয়ে অতীতে মামলাও হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে উপাচার্য জানিয়েছিলেন, দুই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পদমর্যাদা এবং পরিকাঠামো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় দপ্তরের কিছু আপত্তি ছিল। সেই সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের নির্দেশিকা মেনেই দুই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পদমর্যাদা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসমিতির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্কুলশিক্ষা দপ্তরে।
আরও জানা গিয়েছে, বর্তমানে পাঠভবন ও শিক্ষাসত্রে প্রায় ৪৫ জন অতিথি শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তাঁদের মাসিক পারিশ্রমিকও দীর্ঘদিন তুলনামূলক কম ছিল বলে জানা গিয়েছে। উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে জানিয়েছিলেন। গত এক মাস ধরে তাঁদের বেতন কিছুটা বেড়েছে। আগামী দিনে দুই স্কুলে ৭৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
উল্লেখ্য, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ ইতিমধ্যেই পাঠভবন ও শিক্ষাসত্রে কার্যকর হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে একাদশ ও দ্বাদশে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হয়েছে। চলতি বছর দ্বাদশের প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষাও হয়েছে। দুই স্কুল মিলিয়ে প্রায় ২০০ পড়ুয়া তাতে অংশ নিয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণিতেও নতুন শিক্ষানীতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী নতুন পাঠ্যক্রম তৈরির কাজ চলছে বলেও জানা গিয়েছে।
১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে গড়ে ওঠে পাঠভবন। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শিক্ষাসত্র। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনার সঙ্গে যুক্ত এই দুই প্রতিষ্ঠান আজও বিশ্বভারতীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এবার তাদের দীর্ঘদিনের বোর্ড-পরিচয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় পড়ুয়া, প্রাক্তনী ও অভিভাবকেরা। -নিজস্ব চিত্র