


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার বেসরকারি বাস কন্ডাক্টরদের ‘ঠিকুজি-কোষ্ঠী’ তৈরি করছে রাজ্য। এই মুহূর্তে রাজ্যে দেড় লাখের বেশি লোক কন্ডাক্টরি পেশায় যুক্ত। কিন্তু অধিকাংশ কন্ডাক্টরের বৈধ লাইসেন্স নেই। পথ দুর্ঘটনার পর বাসের চালককে সহজে চিহ্নিত করা গেলেও কন্ডাক্টরকে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ প্রশাসনের কাছে বেসরকারি বাস কন্ডাক্টরদের বিস্তারিত তথ্য নেই। সেই ফাঁক পূরণে উদ্যোগী হল পরিবহণ দপ্তর। সোমবার এই সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহন। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রান্তিক শ্রেণির এই মানুষের কল্যাণে বেশকিছু উদারপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে ওই পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আরও সহজে কন্ডাক্টরি লাইসেন্স পেতে সাহায্য করবে। আবেদনকারীকে ন্যূনতম চতুর্থ শ্রেণি পাশ হতে হবে। তার পাশাপাশি তিনি যে এলাকায় এই কাজ করবেন সেখানকার স্থানীয় প্রশাসকের কাছ থেকে একটি শংসাপত্রও আনতে হবে তাঁকে। কন্ডাক্টরদের লাইসেন্স বৈধ থাকবে দু’বছর।
কিন্তু একাধিক বাস মালিক সংগঠনের দাবি, বহু ক্ষেত্রেই কন্ডাক্টরদের কাছে ক্লাস ফোর পাশের সার্টিফিকেট থাকে না। পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলার কিংবা পঞ্চায়েত প্রধান ওই ব্যক্তিকে এই সংক্রান্ত শংসাপত্র দিতে চান না। তাই বেশিরভাগ কন্ডাক্টর লাইসেন্স নেন না কিংবা রিনিউ করান না। এই চরম বাস্তবটি মেনে নিয়েই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করল পরিবহণ দপ্তর। বিভাগীয় সচিবের জারি করা আদেশনামায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ক্লাস ফোর পাশের সার্টিফিকেট কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের শংসাপত্র দরকার নেই। এক্ষেত্রে আবেদনকারী নিজেই লিখিতভাবে ঘোষণা করবেন যে তিনি ক্লাস ফোর পাশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেবেন। সেই ফর্মে সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকবে যে, এই তথ্য সম্পূর্ণ সত্য। আবেদনকারী নিজের দায়িত্বে তা জমা করেছেন। সেক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করার সময় কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে সরকার। এই স্বঘোষণার মাধ্যমেই কন্ডাক্টররা লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। তবে পরবর্তী ছ’মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথি জমা করার কথা বলা হয়েছে আদেশনামায়। সব মিলিয়ে বেসরকারি বাসকে নিয়মে বাঁধতেই এই বড় পদক্ষেপ।