


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: শিশুশিক্ষার অন্যতম হাতিয়ার এখন আধুনিক প্রযুক্তি। অভাব ছিল সেই প্রযুক্তির। তা এবার মিটতে চলেছে ঝাড়গ্রামে। ৮টি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রকে মডেল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শ্রেণিকক্ষে থাকবে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর মেশিন। গড়ে তোলা হবে লাইব্রেরি। চেয়ার, টেবিল, ব্ল্যাক বোর্ড তো থাকবেই। খুদেদের আকর্ষণ করতে শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের চত্বরে খেলার পার্ক তৈরি হবে। শ্রেণিকক্ষের দেওয়াল ভরে উঠবে রঙিন ছবিতে।
ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, বর্তমান সময়ে প্রাথমিকস্তর থেকে শিশুদের শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিষয়টি মাথায় রেখে মডেল শিশু শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার প্রান্তিক এলাকার শিশুরা পঠনপাঠনে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পাবে। ঝাড়গ্রাম জেলা দেড় দশক আগেও সবদিক থেকে পিছিয়ে ছিল। অনুন্নয়ন ও দারিদ্র ছিল নিত্যসঙ্গী। মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যেত। স্কুল ছেড়ে পড়ুয়ারা মজুরের কাজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিত। শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে কচিকাঁচার দল শুধু খাবার আনতে যেত। সেই ছবি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করছে। প্রশাসনিক স্তরে বাল্যবিবাহ রোধে তৎপরতা বেড়েছে। পড়ুয়ারা স্কুলমুখী হচ্ছে। শিক্ষা ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এবার প্রাথমিক শিক্ষার গোড়া থেকে শিশুদের বিকাশের লক্ষ্যে মডেল শিশু শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। জেলাশাসক স্বয়ং শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের পঠনপাঠন ঠিক ভাবে হচ্ছে কি না, তার নজরদারি চালাচ্ছেন। রাধানগর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের নেকড়াডোবা গ্ৰাম পরিদর্শন কালে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রর পঠনপাঠন নিয়ে উষ্মাও প্রকাশ করেন। শিশুরা শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে আসছে কি না, বাবা মায়েদের নজর রাখতে বলেন। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, মডেল প্রকল্পে শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলিকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে। খেলাধুলোর পার্ক থাকবে। কেন্দ্রের দেওয়ালে নানা ধরনের রঙিন ছবি আঁকা থাকবে। প্রজেক্টর মেশিন রাখা হবে। শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালের স্ক্রিনে পড়ার বিষয় থেকে নানা ধরনের শিক্ষামূলক ছবি ফুটে উঠবে। ইন্টারনেট পরিষেবা চালু থাকবে।
জেলায় এই উদ্যোগ শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে বড়সর পরিবর্তন আনতে চলেছে। ঝাড়গ্রামের ৮টি ব্লকে মোট ৫৯৪টি শিশু শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। বিনপুর-১ ব্লকের সায়রসাই, বিনপুর-২ ব্লকের এরগোদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের রাজপাড়া, গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের পেটবিন্ধি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মাটিহানা, গোপী বল্লভপুর-২ ব্লকের কেন্দডাংরী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের জতিয়েরা, জামবনীর কাপগাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের পারশুলী, ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া এলাকায় শিরসি, নয়াগ্ৰামের মলম এলাকার কলমাপুকুরিয়া দক্ষিণ শবরপাড়া ও সাঁকরাইলের কুলটিকরি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ফুলবনি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে মডেল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি তথা জেলা শিশু শিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের নোডাল অফিসার শুভদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ছোট ছেলেমেয়েদের শিশু শিক্ষাকেন্দ্রমুখী করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আটটি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে প্রযুক্তি নির্ভর পঠনপাঠন হবে। পরিকাঠামো উন্নয়নে এই কেন্দ্রগুলোকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। মডেল শিশু শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার এই উদ্যোগ রাজ্যের মধ্যে সম্ভবত প্রথম ।