নভেম্বরেই চরমে পৌঁছাবে মূল্যবৃদ্ধি, ঋণে বাড়তে পারে সুদের বোঝাও, আশঙ্কা স্টেট ব্যাংকের রিপোর্টে
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিত্যপণ্যের দামে নাজেহাল আম জনতা। উদ্বেগের ভাঁজ রিজার্ভ ব্যাংকের কপালেও। সামাল দিতে ইতিমধ্যেই রেপো রেট বাড়িয়েছে তারা। সেই রেশ টেনে রাতারাতি ঋণের উপর সুদের হারও চড়িয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলি। লাফিয়ে বেড়েছে বাড়ি-গাড়ির ইএমআই। রেপো বৃদ্ধির পর নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে কি লাগাম দেওয়া গিয়েছে? উত্তর হল, না। কারণ, দেশজুড়ে খুচরো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে। আর আগামী মাস, অর্থাৎ নভেম্বরেই তা চরমে পৌঁছাতে পারে। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার রিসার্চ বিভাগের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলছে, নভেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির হার ৬.৭ থেকে ৬.৮ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। উপরন্তু এসবিআইয়ের আশঙ্কা, ডিসেম্বরে রেপো রেট বাড়তে পারে আরও ৫০ বেসিস পয়েন্ট বা ০.৫ শতাংশ।

Advertisement

সেপ্টেম্বরে দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে হয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৪.৮২ শতাংশ। মূল্যবৃদ্ধির হিসাব কষার জন্য কেন্দ্র নতুন যে মাপকাঠি এনেছে, সেই অনুযায়ী এটাই সর্বোচ্চ। এর নেপথ্যে মূল কারণ একটাই—খাদ্যপণ্যের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। সেপ্টেম্বরে খাদ্যে মূল্যবৃদ্ধির হার ৭.৭৪ শতাংশে পৌঁছেছে। পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লেবুর মতো সবজির দামেও লাফ দেখা গেছে। উল্লেখযোগ্য হল, মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেক বেশি গ্রামাঞ্চলে। গ্রামীণ এলাকায় মূল্যবৃদ্ধি ৬.০৮ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে তা ৪.৮৮ শতাংশ। খাদ্য, জ্বালানি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও উদ্বেগজনক। মার্চে যা ৩.৬৭ শতাংশ ছিল, সেপ্টেম্বরে সেটাই বেড়ে হয়েছে ৪.৩৪ শতাংশ।
চিন্তার বিষয় হল, মূল্যবৃদ্ধি এখন আর কয়েকটি বাঁধাধরা পণ্যে আটকে নেই, ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বাজারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগস্টে মোট মূল্যবৃদ্ধির ৭৫ শতাংশ দখলে রেখেছিল ২৫টি পণ্য। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৩১টি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দুর্বল বর্ষা, এল নিনোর প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পণ্যের চড়া দাম এবং টাকার ক্রমাগত পতন। এছাড়াও, ভারত থেকে ২১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ স্রেফ বেরিয়ে গেছে।
রিজার্ভ ব্যাংক চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে গড় মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.২ শতাংশ করেছে। তাদের অনুমান, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৪.৯%, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ৬% এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ৫.৭% থাকবে মূল্যবৃদ্ধি। অর্থাৎ ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকেই জিনিসপত্রের দাম সর্বাধিক হওয়ার আশঙ্কা। যা কি না উৎসবের ভরা মরশুম। স্টেট ব্যাংকের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির দাপট সামাল দিতে আরবিআইকে আরও সুদের হার বাড়াতে হবে। তাই ডিসেম্বরে এক ধাক্কায় ০.৫ শতাংশ বেড়ে রেপো রেট ৬ শতাংশ হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে রেপোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঋণের উপর সুদের হার বাড়লেও, আমানত বা সঞ্চয় প্রকল্পে সুদ বাড়াতে চাইছে না ব্যাংকগুলি। যদি ডিসেম্বরে ঋণের উপর আরও ০.৫ শতাংশ সুদের বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধে চেপে বসে, তাহলে পরিস্থিতি যে আরও সঙ্গিন হবে, তাতে সন্দেহ নেই।