


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এক ধাক্কায় রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমানোর পর দুটো প্রশ্ন উঠছে আম জনতার মধ্যে। প্রথমত, গাড়ি-বাড়ির ঋণের বোঝা কি কমবে? আর দ্বিতীয়ত, আমানতের সুদের হারে কি ধস নামবে? কারণ, আরবিআই রেপো কমালে তার প্রভাব পড়ে ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হারে। একদিকে যেমন ঋণের সুদের হারে স্বস্তি মেলে, তেমনই ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের উপর যাঁরা নির্ভর করে থাকেন, বাড়তে থাকে তাঁদের আতঙ্ক। আর প্রত্যেকেরই নজর থাকে ব্যাঙ্কগুলির ঘোষণার দিকে। মঙ্গলবার স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট— আম জনতার ইএমআই, তথা ঋণের বোঝা কমছে। আর তাদের গড়পড়তা হিসেব, লোনের ভার কমতে পারে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু রেপো কমার ফলে সাধারণ মানুষের ফিক্সড ডিপোজিট বা জমা আমানতের সুদের উপর কতটা কোপ পড়তে চলেছে, সেই হিসেব স্টেট ব্যাঙ্ক দেয়নি। ইতিমধ্যেই যেমন বাড়ি-গাড়ির ঋণের উপর সুদের হার ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অব বরোদা, ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ইউকো ব্যাঙ্ক। আবার ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, কানাড়া ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস, এইচডিএফসি, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক কিন্তু এরই মধ্যে এফডিতে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে।
দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার শিখরে থাকায় প্রায় পাঁচ বছর রেপো রেট ৬.৫ শতাংশে আটকে রেখেছিল আরবিআই। গত ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিল মাসে দু’দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে কমিয়ে রেপো নামানো হয় ৬ শতাংশে। ফের তা ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.৫ শতাংশে আনা হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক দাবি করেছে, সাধারণ মানুষ যে ঋণ নেন, তার ৮০ শতাংশই ‘এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক লেন্ডিং রেট’ বা ইবিএলআর-এর উপর নির্ভরশীল। এর অর্থ, ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি ঋণের উপর সুদের হার নির্ধারণে রেপো রেটের মতো বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। যে সব ব্যক্তিগত ঋণ ইবিএলআরের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়, সেগুলিতেই সুদ বাবদ বছরে ৬০ হাজার পর্যন্ত সুরাহার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি নির্ধারক বৈঠকের আগেই এসবিআই দাবি করেছিল, চলতি আর্থিক বছরে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট রেপো কমানো হবে। প্রথমবার কমবে ৫০ বেসিস পয়েন্ট। তারপর দু’ধাপে আরও ৫০ বেসিস পয়েন্ট। স্টেট ব্যাঙ্কের প্রথম পূর্বাভাস মিলে গিয়েছে। মঙ্গলবারের রিপোর্টে তারা দাবি করেছে, আগামী দু’বছর ধরে যদি রেপো রেট কমানোর ধারা বজায় থাকে, তাহলে আরও সুবিধা পেতে পারেন সাধারণ ঋণগ্রহীতারা। এই বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তিও দিয়েছে তারা। জানিয়েছে, ভারতীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রদেয় ঋণের ৪২ শতাংশই গৃহস্থের। গত তিন বছরে সার্বিক ঋণের বহর বৃদ্ধির কারণ, ঋণগ্রহীতার সংখ্যাই বেড়েছে। ঋণ নেওয়ার গড় অঙ্ক বাড়েনি। সাধারণ মানুষ যে ঋণ নিচ্ছেন, তার সিংহভাগ যাচ্ছে বাড়ি ও গাড়ি তৈরির মতো সম্পদ সৃষ্টিতে। সঙ্গে কৃষি ঋণ, ব্যক্তিগত ব্যবসার জন্য নেওয়া লোন এবং শিক্ষা ঋণও দেশের সমৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করছে। এই ঋণগুলির ঝুঁকির হার কম। তাই সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে অন্য কোনও জটিলতা নেই। শেষ পর্যন্ত সুফল পাবেন গ্রাহকই, দাবি এসবিআইয়ের।